Chittagong University

Chittagong University

12

September, 2018

University Review

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষেপে চবি ) চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সরকারি বহুঅনুষদভিত্তিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় । এটি ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় স্থাপিত হয়। এটি দেশের তৃতীয় এবং ক্যাম্পাস আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে প্রায় ২২,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৬৮৭ জন শিক্ষক রয়েছেন৷

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। [] চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। এখানে রয়েছে চট্টগ্রামের সর্ববৃহত

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষকশিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ ও অধ্যাপনা করেছেন যার মধ্যে ১ জননোবেল বিজয়ী এবং একাধিক একুশে পদক বিজয়ী অর্ন্তভূক্ত রয়েছেন। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্কিং ৪৬৮২ তম এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এর রাঙ্কিংক অবস্থান ১৪ তম। যদিও ১৯৯০এর দশক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা প্রগাঢ়ভাবে রাজনৈতিক দলীয় ও সহিংস শিক্ষাঙ্গন রাজনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিমপট্টি মৌজার ২১০০ একর পাহাড়ি এবং সমতল ভূমির উপর অবস্থিত।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

#

বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর

১৯৭৩ সালের ১৪ জুন, মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ জাদুঘরে বেলে পাথরের একাধিক ভাস্কর্যসহ বেশকিছু প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্য এবং একটি কামান রয়েছে। জাদুঘর ভবনটি পাঁচটি গ্যালারিতে বিভক্ত। যেখানে রয়েছে: সমসাময়িক আর্ট গ্যালারি, প্রাগৈতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক আর্ট গ্যালারি, ভাস্কর্য গ্যালারি, লোকশিল্প গ্যালারি এবং ইসলামিক আর্ট গ্যালারি।

জাদুঘরের মূল কক্ষের প্রবেশ পথে রয়েছে দ্বাদশ শতকের একটি প্রাচীন শিলালিপি। এখানে অষ্টম শতকের

পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির চিত্রফলক, বৌদ্ধমূর্তি, মধ্যযুগের ১০১৫টি বিষ্ণুমূর্তি, সৈন্যদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, বিভিন্ন রকম মুদ্রা , প্রাচীন বই, বাদ্যযন্ত্র, আদবিাসীদের বিভিন্ন নিদর্শন, চিনামাটির পাত্র ইত্যাদি সংরক্ষিত রয়েছে। সমসাময়িক আর্ট গ্যালারিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, রশিদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দীন চৌধুরী, নিতুন কুন্ডু চৌধুরীর পেইন্টিংস এবং সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের ভাস্কর্য রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক আর্ট গ্যালারিতে প্রাচীনকালের চিত্রকর্ম, জীবাশ্ম, মাটির মূর্তি রয়েছে। ভাস্কর্য গ্যালারিতে রয়েছে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালের কাঠের মূর্তি, বিষ্ণুমূর্তি, শিবলিঙ্গ প্রভৃতী। লোকশিল্প গ্যালারিতে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের তামা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, বেতের ঝুড়ি, মাটির ভাস্কর্য, মাটির পুতুল প্রভৃতির বিশাল সম্ভার রয়েছে। ইসলামিক আর্ট গ্যালারিতে রয়েছে মোগল আমলের কামান, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, হস্তলিখিত কুরআন, মধ্যযুগীয় অস্ত্র, প্রাচীন মসজিদের ও তাদের ধ্বংসাবশেষের ছবি।জাদুঘরটি সকল খোলার দিনে দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত থাকে।

#প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর

এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পাঠক্রমের সমর্থনে একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ যাদুঘরটি স্থাপিত হয়। এই জাদুঘরে প্রায় ৫৪০টি নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণীর সংখ্যা ৫৭টি এবং ফরমালিন (ভেজা সংরক্ষিত) নমুনার সংখ্যা ৪৮৫ টি। [১৪]

সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের একটি রুমে গড়ে তোলা হয়েছে এ যাদুঘর। এখানে ৫৫০টির মতো সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যূতিক মাছ, আজব বাণাকেল, অক্টোপাস, শামুক, সাপ সহ রয়েছে অসংখ্য বিস্ময়কর জীব বৈচিত্র। [১৪]

#স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য:-

১।স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথেই ভাস্কর্যটির অবস্থান। স্মৃতিস্তম্ভটির স্থপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবীর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র এবং ৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ সর্বমোট ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ আর বীরত্বের স্মৃতিস্বরূপ ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে। ভূমি থেকে স্মরণের মূল বেদি পর্যন্ত সর্বমোট চারটি ধাপ যার প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। প্রথম ধাপ বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, দ্বিতীয় ধাপ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, তৃতীয় ধাপ সত্তরের নির্বাচন ও চতুর্থ ধাপে প্রতিফলিত হয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ছবি রয়েছে, তারা হলেনপ্রকৌশল দপ্তরের চেইন ম্যান বীর প্রতীক মোহাম্মদ হোসেন, চাকসুর জিএস আব্দুর রব, শিক্ষার্থী ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, ফরহাদউদদৌলা, নাজিম উদ্দিন খান, উপসহকারী প্রকৌশলী প্রভাষ কুমার বড়ুয়া এবং প্রহরী সৈয়দ আহমদ।

২।বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বিপরীত পাশে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ভাষ্কর্যটি স্থাপন করা হয়। স্তম্ভটির অবস্থান বুদ্ধিজীবী চত্বর নামে পরিচিত। প্রথিতযশা শিল্পী রশিদ চৌধুরী এর নকশা প্রণয়ন করেন। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত এ স্মৃতিস্তম্ভটি এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনশীল কর্মের সূতিকাগার হিসাবে ভাবা হচ্ছে। [১৫][১৬]

#কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের বিপরীত পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত। এটি ১৯৯৩ সালে স্থাপন করা হয়।

#স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান। খ্যাতিমান শিল্পী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মুর্তজা বশীরের একক প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সৈয়দ সাইফুল কবীর ভাস্কর্যটির নকশায় করেন। [১৬] ভাস্কর্যটিতে ৪টি পাখির প্রতীকী নির্মাণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির ছয় দফা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমধারা এবং পাখির ডানায় ২১টি পাথরের টুকরায় লিপিবদ্ধ হয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সমৃতি। ভাস্কর্টির মূল ভিত্তি রচিত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল

শাপলার ওপর।২৫ মার্চ, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আবু ইউসুফ, ও উপউপাচার্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এটি উদ্ভোধন করেন।

#

আবাসিক হলসমূহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল রয়েছে যার মধ্যে ৭টি ছাত্র হল ও ৩টি ছাত্রী হল এবং ২টি নির্মানাধীন ছাত্র ও ছাত্রী হল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি হোস্টেল রয়েছে।

#ক্যাফেটেরিয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, [১৮] যার মধ্যে

চাকসু ক্যাফেটেরিয়া, আইটি ক্যাফেটেরিয়া অন্যতম।

#মেডিকেল সেন্টার

বিশ্ববিদ্যালয়েরর আইন অনুষদের কাছেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার অবস্থিত। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কাজ করে থাকে। পাশাপাশি এখানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিনামূল্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এই মেডিকেল সেন্টারে সপ্তাহের প্রতিদিন সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকগণ পালা করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। এই সেন্টারে ১১ জন চিকিৎসক ও ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল সেন্টার প্রাঙ্গনে ৬ টি অস্থায়ী বিছানার ব্যবস্থা রয়েছে।

#প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে পাহাড়ের ঝরনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস প্রাকৃতিক সৌর্ন্দের বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন জুড়ে রয়েছে আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ী পথ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং বন্য প্রাণী। প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটা পাহাড়, বাণিজ্য অনুষদের পেছনে, ফরেস্ট্রি একালাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট আকারের লালচে বাদামী পিঙ্গল রংয়ের মায়া হরিণ দেখা যায়। এইসব মায়া হরিণগুলো খর্বকায় ও লাজুক স্বভাবের। তবে এই হরিণের প্রকৃত সংখ্যা কত তা জানাে নেই। এছাড়াও কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি ঝরনা।

#চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসমূহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭টি অনুষদে ৫২টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং অন্তর্গত বিভাগসমূহ হলো:

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ

জীব বিজ্ঞান অনুষদ

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ

আইন অনুষদ

বিজ্ঞান অনুষদ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ

#ইনস্টিটিউটসমূহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট গুলো হলো: []

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট

ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং

চারুকলা ইনস্টিটিউট

ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিশ

সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট

গবেষণা কেন্দ্রসমূহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো হলো:

১।ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং

২।নজরুল গবেষণা কেন্দ্র

৩।ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ

৪।গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র

৫।সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট

#অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে বর্তমানে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

#চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার যা দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই গ্রন্থাগারে বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় ৩.৫ লক্ষ [২৮] যার মধ্যে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিওভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই। [][২৯] ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোবধনের সাথে এই গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৩০০ বই নিয়ে।[২৯] লাইব্রেরি বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয় ১৯৯০ সালের নভেম্বরে। তিনতলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। গ্রন্থাগার ভবনে একটি মিলনায়তনও রয়েছে। গ্রন্থাগারে ফটোকপির ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রন্থাগারটিতে প্রতিদিন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গ্রন্থাগারটিকে বর্তমানে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।

#উপাচার্যবৃন্দ

ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তী এ যাবৎকাল পর্যন্ত মোট ১৭ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ।

প্রথম উপাচার্য

আজিজুর রহমান মল্লিক

বর্তমান উপাচার্য

ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

#প্রকাশনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন গবেষণাপত্র প্রকাশের উন্মুক্ত সাধারণ মাধ্যম। পূর্বে এর নাম ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ । আলাদা পৃথক অনুষদ জন্য এর সাথে প্রত্যয়রূপে অনুষদের নাম যুক্ত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব আর্টস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব বিজনেস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব ল দুই বছর অন্তর প্রকাশিত হয়। [৪১] এছাড়াও বাংলা বিভাগ থেকে পান্ডুলিপি, ইতিহাস বিভাগ থেকে ইতিহাস পত্রিকা এবং অর্থনীতি বিভাগ থেকে ইকনমিক ইকো পত্রিকা প্রকাশিত হয়। []

#যাতায়াত

বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস এবং মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১০টি বগি বিশিষ্ট দুইটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। [] ট্রেনগুলো বটতলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন থেকে বটতলি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যাতায়াত করে। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একমাত্র বাহন হিসেবে শাটল ট্রেনের প্রথম যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনে যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে দুইটি ট্রেন দৈনিক সাতবার ক্যাম্পাস থেকে ষোলশহর এবং ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকে।

আপনাদের সবাইকে স্বাগতম পাহাড়পর্বতময় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সকলের জন্য অশুভকামনা ও আসার আমন্ত্রণ রইলো।

ওয়েবসাইট www.cu.ac.bd

Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

12

September, 2018

University Review

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৫৩ সালের ৬ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা ৭৫৩ একরের এই বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ডঃ সোনানি টমাসের পরিকল্পনায় নির্মিত এই ক্যাম্পাসটি যেমন পরিপাটি তেমনই সুন্দর। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ আছে প্রায় ৬০টির কাছাকাছি এবং শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩৫০০০। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পোড়াতে হয়েছিল অনেক কাঠ খড়।
দেশ ভাগের পূর্বে অর্থাৎ ইংরেজ শাসনামলে বর্তমান উত্তরবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার তেমন প্রসার না থাকায় ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহী কলেজ। কিন্তু বছরখানিক পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর যখন সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয় তখন রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনমত গড়ে ওঠে।
১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ১০ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারী এই কমিটি দুটি সভা কর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন এতটাই তীব্র আকার ধারন করে যে ১৫জনেকে সে সময় কারাবরণ করতে হয়। এরপর ১৯৫৩ সালের এক জনসভায় পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী জনাব মাদার বখশ , বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী না হলে রাজশাহীকে আলাদা প্রদেশ ঘোষনার হুমকি দেন। তার এই হুমকি কাজে আসে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইন সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়। এবং একই বছর ৬ এপ্রিল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে।
প্রথমদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হয় রাজশাহী কলেজে।প্রশানিক কাজ চলে পাশের রেশম কুঠিতে। ১৯৫৬ সালে মতিহারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরীর কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ নাগাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ক্যাম্পাসে সম্পুর্ণভাবে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন তৈরী হয়েছিল এক আন্দোলনের মাধ্যমে, তেমনি দেশের স্বাধীনা যুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যার প্রমাণ হয়ে আছেন শহীদ শামসুজ্জোহা,শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার,শহীদ হবীবুর রহমান স্যারদের মত শহীদ বুদ্ধিজীবীরা।

এই বিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষণা ইন্সটিটিউট, ৫টি অনুষদের অধীনে প্রায় ৬০টি বিভাগ। এই সব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ১০টির মত একাডেমিক ভবন। চমৎকারভাবে সাজানো এই ক্যাম্পাসে এক দিকে রয়েছে প্রথম,দ্বিতীয়,তৃ্তীয় ও চতুর্থ নামের চারটি বিজ্ঞান ভবন। অন্যদিকে রয়েছে রবীন্দ্র ভবন, মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন,শহীদুল্লাহ কলা ভবন এবং সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন নামের চারটি একাডেমিক ভবন যা ব্যবহৃত হয় মানবিক এবং বানিজ্য বিষয়ক বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রমে। এছাড়াও কৃষি অনুষদ ও চারুকলার জন্য হয়েছে আলাদা আলাদা ভবন সম্বলিত ক্যাম্পাস যা মূল ক্যাম্পাসের সাথেই লাগোয়া। আইবিএ এর জন্য রয়েছে তাদের নিজস্ব ভবন এবং ক্যাম্পাস। বলাবাহুল্য, কৃষি অনুষদের ব্যবহারিক এবং গবেষণার জন্য রয়েছে নাড়িকেলবাড়িয়া নামক আরেকটি ক্যাম্পাস।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে রাজশাহী,বগুড়া,রংপুর মেডিকেল কলেজ সহ আরো বেশ কিছু স্কুল কলেজ,যার কিছু কিছু এই ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থিত।
দুইটি প্রাসাশনিক ভবন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক প্রধান ফটকের সামনে। তার পাশেই বিশাল কেন্দ্রীয় মসজিদ।মসজিদের সামনেই স্মৃতিসৌধ। একদিকে সিনেট ভবন আর ডীনস কমপ্লেক্স।
ক্যাম্পাসের উত্তর পূর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ছাত্রদের জন্য ১১টি আবাসিক হল ৷প্রতিটি হলের সামনেই আছে বিশাল মাঠ ও পুকুর। ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি আবাসিক হল যা ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ এছাড়াও গবেষক ও বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি রয়েছে। যার নাম শহীদ মীর কাইয়ুম হোসেন ইন্টারন্যাশনাল ডরমেটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তার-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷
বাংলাদেশে একমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। এছাড়াও রয়েছে নিজস্ব সুইমিংপুল,ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেশিয়াম, মন্দির,মেডিকেল সেন্টার,বিজ্ঞান ও প্রেস ভবন,ক্যাফেটেরিয়া, বিশাল তিনতলা বিশিষ্ট লাইব্রেরী, প্রায় তিন হাজার আসন ক্ষমতা সম্পন্ন কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়াম, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন, নিজস্ব ওয়ার্কশপ এবং বাস স্টেশন, বিএনসিসি ভবন, মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা,প্রথম উপাচার্য স্যার জুবেরীর নামে আছে একটি বিশাল গেস্ট হাউজ এবং অগণিত গবেষনা ইন্সটিটিউট।
আর আছে বিখ্যাত প্যারিস রোড। যার বিশাল প্রশস্ত রাস্তার দুইধারে আকাশছোয়া গগণ শিরিশ গাছ। রয়েছে আম ও লিচু বাগান। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে আছে বদ্ধভূমি,সাবাশ বাংলা স্ফুলিঙ্গের মত মনুমেন্ট,লোকাল ট্রেনের জন্য একটি স্টেশন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনে করেছেন বাংলাদশের অনেক অনেক নামী দামী ব্যক্তিবর্গ। যেমনঃ নাট্যকার মলয় ভৌমিক, গণিতবিদ সুব্রত মজুমদার, অভিনেত্রী[ শর্মিলী আহমেদ, সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ক্রিকেটার আল আমীন হোসেন,প্রফেসর এমিরেটাস অরুণ কুমার বসাক স্যার,একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার বিজয়ী সনৎ কুমার সাহা, কবি মহাদেব সাহা, বিচারক কৃষ্ণা দেবনাথ সহ আরো অনেকেই।
পূর্বে সূর্য্য উঠে আলো ছড়ায় মতিহারের সবুজ চত্বরে। গগণ সিরিশের পাতার ফাক গলে রোদ এসে পরে প্যারিস রোডে। কর্মব্যাস্ততা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। টুকিটাকি চত্বর, ওয়ালস্ট্রীট,জুরাসিক চত্বর কিংবা শহীদুল্লাহ আর মমতাজের আম বাগান মুখরিত হয় ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে। দুপুরের অলস ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে গান, নাচ, নাটক,বিতর্ক সহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।শেখ রাসেল,পুকুর পাড়,আম বাগানগুলো সাক্ষী হয়ে থাকে নানান ভবিষ্যৎ স্বপ্নের। এভাবেই কর্ম্ব্যস্ততার মাঝে ঢলে পরে সুর্য।গোধুলীর আগে জুবেরী, সাবাশ বাংলা, হবিবুরের মাঠগুলো ক্লান্ত দাপুটে ছেলে গুলোর জন্য মমতাময়ীর রূপ নেয়। ধীরে ধীরে রাত বাড়ার সাথে সাথে যে যার নীড়ে ফিরে। বাংলাদেশের বুকে মাথা উচু করে স্বগৌরবে বিশাল এক ক্যাম্পাস আর ইতিহাস নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

Jagannath University

Jagannath University

12

September, 2018

University Review

Jagannath University -জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্বতন জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘােষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু। অধ্যাপক ড: এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এখানে প্রায় ২৩,০০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ১,০০০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

ইতিহাস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবহিত প্রাক্তন নাম জগন্নাথ কলেজ, এই নামেই বিংশ শতাব্দীর

অধিকাংশ সময় জুড়ে পরিচিত ছিল। এটি ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। ১৮৫৪ সালে

ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এর প্রতিষ্ঠা হ্য। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে জগন্নাথ স্কুল করা হয়।

বালিয়াটির জমিদার কিশােরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। উল্লেখ্য কিশােরীলাল রায় শিক্ষাবিস্তারে আগ্রহী ছিলেন।

১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত হয়। এসময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গ্রন্থাগারের বই পুস্তক, জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে জগন্নাথ কলেজ। গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। জগন্নাথ কলেজে আই,এ, আই, এসসি, বি,এ (পাস) শ্রেণী ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু করা হলেও ১৯২১ সালে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয় জগন্নাথকে। পুরানাে ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের  শিক্ষার্থী মােহাম্মদ রফিকউদ্দিন (ভাষা শহীদ রফিক) আত্মত্যাগ করেন। ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারীকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারী মর্যাদা লাভ করে। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। বর্তমানে মােট ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৬ টি বিভাগের ও ২টি ইন্সিটিউটের মাধ্যমে এখানে  শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ২০শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

অনুষদ এবং ইন্সটিটিউটসমূহ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মােট ছয়টি অনুষদে ৩৬ টি বিভাগ ও ০২ টি ইনস্টিটিউট রযেছে।

বিজ্ঞান অনুষদ

  • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • মনােবিজ্ঞান বিভাগ

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ

  • হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ
  • ফিনান্স বিভাগ
  • মার্কেটিং বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদ

  • ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ
  • অর্থনীতি বিভাগ
  • গণযােগাযােগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজকর্ম বিভাগ
  • লােক প্রশাসন বিভাগ
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।

লাইক এন্ড আসায়ন্স অনুষদ

  • মাইক্রোবায়ােলজি বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • বায়ােকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়ােলজি বিভাগ • জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়ােটেকনােলজি বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
  • উদ্ভিদ বিজ্ঞানবিভাগ
  • ভূগােল ও পরিবেশ বিভাগ

কলা অনুষদ

  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ।
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ 
  • ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • চারুকলা ও গ্রাফিক্স বিভাগ
  • নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ

আইন অনুষদ

  • আইন বিভাগ
  • ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনাইন্সটিটিউট
  • ইন্সটিটিউট অফ মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ(IML)।
  • আই ই আর

উল্লেখযােগ্য শিক্ষক

বাংলাদেশের অনেক প্রতিভাবান ব্যাক্তিবর্গ গণ এইখানে শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  তাদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য যেই নাম গুলাে না বললেই নই। যাঁদের নাম গুলাে শুনলেই আমরা চমকে উঠি তারা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রদান এর কাজে নিয়ােজিত ছিলেন। তারা হলেন:

  • হাসান হাফিজুর রহমান,বাংলা বিভাগ(কবি ও সাংবাদিক)
  • ড.আবুল কালাম আজাদ,গণিত বিভাগ(শহীদ বুদ্ধিজীবী)
  • মাে. কামরুল আলম খান,পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ(পাথরকুচি থেকে বিদ্যুত্ উদ্ভাবক)
  • মুনীর চৌধুরী
  • আলাউদ্দিন আল আজাদ,বাংলা বিভাগ(ঔপন্যাসিক) 
  • শওকত আলী,বাংলা বিভাগ(কথাসাহিত্যিক)
  • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস,বাংলা বিভাগ(কথাসাহিত্যিক)
  • রাহাত খান,বাংলা বিভাগ(সাংবাদিক ও সাহিত্যিক)
  • সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য,ইতিহাস বিভাগ(শহীদ বুদ্ধিজীবী)
  • সৈয়দ আব্দুল হাদী,বাংলা বিভাগ(সঙ্গীত শিল্পী)
  • অজিত কুমার গুহ,বাংলা বিভাগ(ভাষা সৈনিক ও সাহিত্য সমালােচক)

উল্লেখযােগ্য শিক্ষার্থী

এবার আসা যাক শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে জেনে অনেক হবেন যে এই দেশ এর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন  এই বিশ্ব বিদ্যালয় এর ছাত্র।এমন আরও অনেক গুনি-মানি জন এখান থেকে শিক্ষা অর্জন করে গিয়ে বাংলাদেশ এর বিভিন্ন জায়গাই অবদান রেখেছেন। এমন কয একজন হলেন

  • তাজউদ্দীন আহমেদ – (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী);
  • রফিকউদ্দিন আহমদ (ভাষা শহীদ);
  • জহির রায়হান (কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক);
  • দীনেশচন্দ্র সেন(মৈমনসিংহ গীতিকার লেখক);
  • আনিসুজ্জামান (শিক্ষাবিদ); 
  • মানকুমার বসু ঠাকুর (ব্রিটিশবিরােধী নৌ বিদ্রোহের শহীদ)
  • শওকত আলী (রাজনীতিবিদ)(ভাষা আন্দোলনের নেতা);
  • সৈয়দ শামসুল হক (সাহিত্যিক);
  • আবুল মনসুর আহমেদ(সাহিত্যিক);
  • ব্রজেন দাস (ইংলিশ চ্যানেল পাঁড়ি দেয়া সাঁতারু);
  • প্রেমেন্দ্র মিত্র (বাঙালি কবি, ছােটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক);
  • জয়নুল আবেদীন (চিত্রশিল্পী);
  • এটিএম শামসুজ্জামান (অভিনেতা;
  • ইমদাদুল হক মিলন (লেখক , সম্পাদক – দৈনিক কালের কণ্ঠ;
  • জাহিদ হাসান (অভিনেতা);
  • শামীম জামান(অভিনেতা);
  • বিপ্লব (শিল্পী);
  • জুয়েল আইচ (যাদুকর);
  • ফারুক (অভিনেতা;
  • রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু (সাবেক ডাক ও টেলিযােগাযােগ মন্ত্রী;
  • প্রবীর মিত্র (অভিনেতা;
  • মীর সাব্বির (অভিনেতা;
  • নাসির উদ্দীন ইউসুফ(মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক;
  • শামসুজ্জোহা (প্রথম শহীদ)
  • হায়দার হােসেন (সঙ্গীত শিল্পী);
  • কাজী মােতাহার হােসেন (লেখক);
  • ফকির আলমগীর (মুক্তিযােদ্ধা ও বিখ্যাত শিল্পি;
  • কিরণ চন্দ্র রায় (শিল্পি;
  • আবদুল হালিম চৌধুরী জুযেল (বীর বিক্রম);
  • এম হামিদুল্লাহ খান (বীর প্রতীক;
  • মােফাজ্জল হােসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম;
  • সাদেক হােসেন খােকা (সাবেক মেয়র, ঢাকা)
  • আতাউর রহমান খান (সাবেক প্রধানমন্ত্রী);
  • শেখ ফজলুল হক মনি
  • সাঈদ খােকন (মেয়র,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন)
  • ভবতােষ দত্ত (অর্থনীতিবিদ); 
  • মােহাম্মদ নাসিম(স্বাস্থ্যমন্ত্রী);
  • আসাদুজ্জামান খান কামাল(স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী;
  • নুরুল মােমেন (নাট্যকার);
  • শামসুজ্জামান খান (মহাপরিচালক,বাংলা একাডেমি)
  • ব্যারিস্টার এম আমীরুল ইসলাম(স্বাধীনতার ঘােষণাপত্র রচয়িতা)
  • কাজী আরেফ আহমেদ (মুজিব বাহিনীর গােয়েন্দা প্রধান)
  • এ আর ইউসুফ (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)

এই বিশ্ব বিদ্যালয় এর সকল সুযােগ সুবিধা প্রদান এর জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র, আবাসিক হল এবংখেলার মাঠ আছে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র 

জবিতে স্বাস্থ্য রক্ষার মৌলিক সুবিধাদি সম্বলিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। রােগ নির্ণয়ে সহায়ক অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, আলট্রাম্নোগ্রাম, ই.সি.জি. মেশিন এবং আধুনিক স্বয়ংপূর্ণ একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাব আছে। এটি নতুন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল্যের একটি আধুনিক আ্যামবুলেন্স ও রয়েছে।

আবাসিক হল

ছাত্রদের থাকার সুবিধার্থে ডিসেম্বর, ২০১১ইং তারিখ পর্যন্ত সর্বমােট ১০টি হল বা ছাত্রাবাস রয়েছে; তন্মধ্যে ১টি ছাত্রীদের হল। উল্লেখ্য এই সবগুলাে হলই বেদখল হয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই। হলগুলাে হলােঃ

  • বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল(নতুন ছাত্রী হল)
  • ড.হাবিবুর রহমান হল,
  • বাণী ভবন হল,
  • আব্দুর রহমান হল,
  • শহীদ আনােয়ার শফিক হল,
  • তিব্বত হল,
  • সাইদুর রহমান হল,
  • রউফ মজুমদার হল,
  • শহীদ আজমল হােসেন হল,
  • বজলুর রহমান হল,
  • নজরুল ইসলাম খাঁন হল,
  • শহীদ শাহাবুদ্দিন হল।

কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও শরীরচর্চাকেন্দ্র

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই ধুপখােলায় অবস্থিত। থেলার মাঠটি ১০ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত। খেলার মাঠের পাশেই শরীরচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। কেরানীগঞ্জে জবির নতুন ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি একটি হল নির্মাণ করা হবে।

সংগঠন

চাহিদা অনুযায়ী এখন এ বিভিন্ন সংগঠন ও আছে। যেমন: 

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক

  • উদীচী
  • চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
  • জবি ফটোগ্রাফিক সােসাইটি
  • জবি আবৃতি সংসদ
  • জবি থিয়েটার ও চলচ্চিত্র সংসদ
  • জবি সাংবাদিক সমিতি
  • জবি রােভার স্কাউট
  • বিএনসিসি
  • জবি শিক্ষক সমিতি
  • জবি ডিবেটিং সােসাইটি
  • প্রতিরুদ্ধ
  • বাঁধন।
  • কনজিউমার ইউথ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞান

  • বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ
  • বাংলাদেশ ওপেন সায়েন্স অর্গানাইজেশন

বিবিধ

  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ারফক্স ক্লাব
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মুটকোর্ট সােসাইটি

ছাত্র সংগঠন

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলাে হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালটি এবং নিজের নাম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ স্থান এর মাঝেই জাইগা করে নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

12

September, 2018

University Review

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৫৩ সালের ৬ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা ৭৫৩ একরের এই বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ডঃ সোনানি টমাসের পরিকল্পনায় নির্মিত এই ক্যাম্পাসটি যেমন পরিপাটি তেমনই সুন্দর। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ আছে প্রায় ৬০টির কাছাকাছি এবং শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩৫০০০। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পোড়াতে হয়েছিল অনেক কাঠ খড়।
দেশ ভাগের পূর্বে অর্থাৎ ইংরেজ শাসনামলে বর্তমান উত্তরবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার তেমন প্রসার না থাকায় ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহী কলেজ। কিন্তু বছরখানিক পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর যখন সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয় তখন রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনমত গড়ে ওঠে।
১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ১০ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারী এই কমিটি দুটি সভা কর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন এতটাই তীব্র আকার ধারন করে যে ১৫জনেকে সে সময় কারাবরণ করতে হয়। এরপর ১৯৫৩ সালের এক জনসভায় পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী জনাব মাদার বখশ , বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী না হলে রাজশাহীকে আলাদা প্রদেশ ঘোষনার হুমকি দেন। তার এই হুমকি কাজে আসে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইন সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়। এবং একই বছর ৬ এপ্রিল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে।
প্রথমদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হয় রাজশাহী কলেজে।প্রশানিক কাজ চলে পাশের রেশম কুঠিতে। ১৯৫৬ সালে মতিহারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরীর কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ নাগাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ক্যাম্পাসে সম্পুর্ণভাবে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন তৈরী হয়েছিল এক আন্দোলনের মাধ্যমে, তেমনি দেশের স্বাধীনা যুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যার প্রমাণ হয়ে আছেন শহীদ শামসুজ্জোহা,শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার,শহীদ হবীবুর রহমান স্যারদের মত শহীদ বুদ্ধিজীবীরা।

এই বিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষণা ইন্সটিটিউট, ৫টি অনুষদের অধীনে প্রায় ৬০টি বিভাগ। এই সব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ১০টির মত একাডেমিক ভবন। চমৎকারভাবে সাজানো এই ক্যাম্পাসে এক দিকে রয়েছে প্রথম,দ্বিতীয়,তৃ্তীয় ও চতুর্থ নামের চারটি বিজ্ঞান ভবন। অন্যদিকে রয়েছে রবীন্দ্র ভবন, মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন,শহীদুল্লাহ কলা ভবন এবং সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন নামের চারটি একাডেমিক ভবন যা ব্যবহৃত হয় মানবিক এবং বানিজ্য বিষয়ক বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রমে। এছাড়াও কৃষি অনুষদ ও চারুকলার জন্য হয়েছে আলাদা আলাদা ভবন সম্বলিত ক্যাম্পাস যা মূল ক্যাম্পাসের সাথেই লাগোয়া। আইবিএ এর জন্য রয়েছে তাদের নিজস্ব ভবন এবং ক্যাম্পাস। বলাবাহুল্য, কৃষি অনুষদের ব্যবহারিক এবং গবেষণার জন্য রয়েছে নাড়িকেলবাড়িয়া নামক আরেকটি ক্যাম্পাস।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে রাজশাহী,বগুড়া,রংপুর মেডিকেল কলেজ সহ আরো বেশ কিছু স্কুল কলেজ,যার কিছু কিছু এই ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থিত।
দুইটি প্রাসাশনিক ভবন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক প্রধান ফটকের সামনে। তার পাশেই বিশাল কেন্দ্রীয় মসজিদ।মসজিদের সামনেই স্মৃতিসৌধ। একদিকে সিনেট ভবন আর ডীনস কমপ্লেক্স।
ক্যাম্পাসের উত্তর পূর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ছাত্রদের জন্য ১১টি আবাসিক হল ৷প্রতিটি হলের সামনেই আছে বিশাল মাঠ ও পুকুর। ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি আবাসিক হল যা ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ এছাড়াও গবেষক ও বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি রয়েছে। যার নাম শহীদ মীর কাইয়ুম হোসেন ইন্টারন্যাশনাল ডরমেটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তার-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷
বাংলাদেশে একমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। এছাড়াও রয়েছে নিজস্ব সুইমিংপুল,ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেশিয়াম, মন্দির,মেডিকেল সেন্টার,বিজ্ঞান ও প্রেস ভবন,ক্যাফেটেরিয়া, বিশাল তিনতলা বিশিষ্ট লাইব্রেরী, প্রায় তিন হাজার আসন ক্ষমতা সম্পন্ন কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়াম, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন, নিজস্ব ওয়ার্কশপ এবং বাস স্টেশন, বিএনসিসি ভবন, মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা,প্রথম উপাচার্য স্যার জুবেরীর নামে আছে একটি বিশাল গেস্ট হাউজ এবং অগণিত গবেষনা ইন্সটিটিউট।
আর আছে বিখ্যাত প্যারিস রোড। যার বিশাল প্রশস্ত রাস্তার দুইধারে আকাশছোয়া গগণ শিরিশ গাছ। রয়েছে আম ও লিচু বাগান। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে আছে বদ্ধভূমি,সাবাশ বাংলা স্ফুলিঙ্গের মত মনুমেন্ট,লোকাল ট্রেনের জন্য একটি স্টেশন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনে করেছেন বাংলাদশের অনেক অনেক নামী দামী ব্যক্তিবর্গ। যেমনঃ নাট্যকার মলয় ভৌমিক, গণিতবিদ সুব্রত মজুমদার, অভিনেত্রী[ শর্মিলী আহমেদ, সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ক্রিকেটার আল আমীন হোসেন,প্রফেসর এমিরেটাস অরুণ কুমার বসাক স্যার,একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার বিজয়ী সনৎ কুমার সাহা, কবি মহাদেব সাহা, বিচারক কৃষ্ণা দেবনাথ সহ আরো অনেকেই।
পূর্বে সূর্য্য উঠে আলো ছড়ায় মতিহারের সবুজ চত্বরে। গগণ সিরিশের পাতার ফাক গলে রোদ এসে পরে প্যারিস রোডে। কর্মব্যাস্ততা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। টুকিটাকি চত্বর, ওয়ালস্ট্রীট,জুরাসিক চত্বর কিংবা শহীদুল্লাহ আর মমতাজের আম বাগান মুখরিত হয় ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে। দুপুরের অলস ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে গান, নাচ, নাটক,বিতর্ক সহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।শেখ রাসেল,পুকুর পাড়,আম বাগানগুলো সাক্ষী হয়ে থাকে নানান ভবিষ্যৎ স্বপ্নের। এভাবেই কর্ম্ব্যস্ততার মাঝে ঢলে পরে সুর্য।গোধুলীর আগে জুবেরী, সাবাশ বাংলা, হবিবুরের মাঠগুলো ক্লান্ত দাপুটে ছেলে গুলোর জন্য মমতাময়ীর রূপ নেয়। ধীরে ধীরে রাত বাড়ার সাথে সাথে যে যার নীড়ে ফিরে। বাংলাদেশের বুকে মাথা উচু করে স্বগৌরবে বিশাল এক ক্যাম্পাস আর ইতিহাস নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

12

September, 2018

University Review

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের তথা পূর্ব বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১লা জুলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ববঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল একটি মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজ সৃষ্টি করা। এই মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজই পরবর্তীকালে পূর্ব বঙ্গের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দান করে। বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে পূর্ব বঙ্গে মুসলিম সমাজে যে নবজাগরণ শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারই ফল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষেপে ঢাবি, বা ডিইউ) ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়; যা বহু-অনুষদভিত্তিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। ১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতে অক্সব্রিজ শিক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণে এটি স্থাপিত হয়। সূচনালগ্নে বিভিন্ন প্রথিতযশা বৃত্তিধারী ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি পদক লাভ করেছেন। এছাড়াও, এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এশিয়াউইকের পক্ষ থেকে শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেয়। এটি এশিয়ার সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৪তম।।এখানে প্রায় ৩৭,০০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ১,৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছে৷

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ১৯২১। বাম থেকে ডানে উপবিষ্ট: মি. জি. ডব্লু কোচলার, ডক্টর রাসবিহারী ঘোষ, মি. আর নাথান, নওয়াব সিরাজুল ইসলাম। বাম থেকে ডানে দন্ডায়মান: ডক্টর এস সি বিদ্যাভূষণ, মিস্টার সি ডব্লু পিক, মি. ডব্লু এ জে ওর্চয়োল্ড, সামসুল ওলেমান এন এ ওয়াহেদ, বাবু লোহিত মোহন চ্যাটার্জী, বাবু আনন্দচন্দ্র রায়, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মি. ডি এস ফ্রেসার। (ছবিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০০৭ উপলক্ষে প্রকাশনা শাশ্বতী থেকে নেয়া।)
১৯০৫ সালের অক্টোবর ১৬ বঙ্গভঙ্গে ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন ‘পূর্ব বাংলা’ ও ‘আসাম’ প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার সবচেয়ে উন্নতি ঘটে। কিন্তু ১৯১১ সালের ১ নভেম্বর দিল্লির দরবারে ঘোষণার মাধ্যমে ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বঙ্গে শিক্ষার যে জোয়ার এসেছিল, তাতে অচিরেই ঢাকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অবধারিত ছিল। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে সে সম্ভবনা শেষ হয়ে যায়। ১৯১২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন এবং ঘোষণা করেন যে, তিনি সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করবেন। ১৯১২ সনের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির ২৫ টি সাবকমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রুপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন দেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্ববান জানান। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমস্‌ফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিশনের উপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কমিশনের প্রধান ছিলেন মাইকেল স্যাডলার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (স্যাডলার কমিশন) ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কিন্তু, এ কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি বা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় করার নাথান কমিটির প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কিন্তু, ঢাকা কলেজের আইন বিভাগের সহঅধ্যক্ষ ড. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তিরূপে অভিহিত করেন। একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক টি সি উইলিয়ামস অর্থনৈতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ন স্বাধীনতা দাবি করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা শহরের কলেজ গুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন আবাসিক হলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটরুপে গন্য করার সুপারিশ করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল হাউসের পাঁচ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অওতাভুক্ত এলাকায় গন্য করার কথাও বলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তেরটি সুপারিশ করেছিল, এবং কিছু রদবদল সহ তা ১৯২০ সালের ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। ভারতের তদানীন্তন গভর্ণর জেনারেল ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ তাতে সম্মতি প্রদান করেন। স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্টার পি. জে. হার্টগ। তিনি ১

৯২০ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবের কার্যক্রম শুরু করে। উল্লেখ্য আছে রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বিরুধিতা করেন।

ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তার ঢাকা সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন করলে ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাশবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষাৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী।ভারতের গভর্ণর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কি মূল্যে অর্থাৎ কিসের বিনিময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা থেকে বিরত থাকবেন? শেষ পর্যন্ত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে তার বিরোধিতার অবসান করেছিলেন। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার তার আত্মস্মৃতিতে লিখেছিলেন ১৯১৯ সালের নতুন আইন অনুসারে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী প্রভাসচন্দ্র মিত্র শিক্ষকদের বেতন কমানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্ঠার সময় রিজার্ভ ফান্ডে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ছিল। বাংলা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদত্ত সরকারি ভবন বাবদ সেগুলো কেটে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবছর মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। ফলে শিক্ষকদের বেতন কমিয়ে দিতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ নানাপ্রকার প্রতিকুলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। কিন্তু, হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্দ্যেগের হাল ধরেন। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ের ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস” হিসেবে পালন করা হয়।

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ. ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫ টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।[১২] ১৯৩০-৩৪ জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ

ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।

ক্যাম্পাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরু থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়। অধুনালিপ্ত পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানীর জন্য ঐতিহাসিক বাগ-এ-পাতশাহীতে গড়ে উঠেছিলো রমনীয় রমনা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মনোলোভা দৃশ্যাবলী একদিকে যেমন ছিলো প্রগতিশীলতার ধারক, তেমনি তারুণ্যের উন্মত্ততাকে যেনো হাতছানি দিয়েছিলো এক উদাত্ত আহবানে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে তার পূর্ব পাশে অবস্থিত ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল), লিটন হল, কার্জন হল, বিজ্ঞান ভবন সমূহ, ঢাকা হল এর পূর্ব পাশে বিরাট দীঘি, অপর পাশে ফজলুল হক মুসলিম হল। বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে প্রধান প্রবেশ পথ ছিলো ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল)- এর দিক থেকে, মাঠে ঢুকতেই ডানে জিমনেসিয়াম আর বামে একটি পুকুর; বিশ্ববিদ্যালয় মাঠটি ত্রিকোণাকৃতি এবং তাতে দুটি ফুটবল গ্রাউন্ড ছিলো। মাঠের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব তিনদিক দিয়েই বৃক্ষশোভিত রাজপথ প্রসারিত; বিশ্ববিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণদিকের রাস্তাটি ইউকেলিপটাস শোভিত, যে রাস্তাটি মুসলিম হল পর্যন্ত সম্প্রসারিত এবং মুসলিম হলের সামনে শিরিষ বা রেইনট্রি জাতীয় বৃক্ষ শোভিত; পুরাতন রেললাইনের সঙ্গে সমান্তরাল সাবেক পূর্ববাংলা ও আসাম সরকারের সেক্রেটারিয়েট ভবন, সামনে ইউকেলিপটাস শোভিত প্রশস্ত রাজপথ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ময়দান। ঐ সেক্রেটারিয়েট ভবনের দোতলায় প্রথমে মুসলিম হল এবং একতলায় বিজ্ঞান ছাড়া অন্যান্য বিভাগ বিশেষত কলা অনুষদের বিভাগ এবং ক্লাশরুম প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এ বিশাল ভবনটির পূর্বাংশ ব্যতীত সবটুকুই সামরিক হাসপাতালে এবং দেশবিভাগের পূর্বে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর দিকে প্রবাহিত রাজপথের পাশে ছিলো দুটি কি তিনটি বিরাট লাল ইটের দোতলা বাংলো, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরাই বাস করতেন। এ বাংলোগুলোর পেছনে রমনা রেসকোর্সের দিকে মুখ করে বর্ধমান হাউস ও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিবাস। দেশবিভাগের পরে যা হয়েছিলো, পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী প্রথমে খাজা নাজিমউদ্দিন এবং পরে নূরুল আমীনের বাসভবন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভের পর ১৯৫৭ সালে একুশ দফার এক দফা অনুযায়ী বর্ধমান হাউস বাংলা একডেমিতে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মাঠের ভেতরে সে কালে একটি পুকুর (উত্তর পূর্বকোণে) ছাড়াও একটি জঙ্গলাকীর্ণ পুরাতন কবরস্থান ছিলো, যা এখন নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান
দেশের সর্ব প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ৮২টি বিভাগ, ১১টি ইনস্টিটিউট এবং ৩৯টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার জন্যে রয়েছে ২০টি আবাসিক হল ও হোস্টেল।

ইনস্টিটিউট সমূহ

শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট: দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য যোগ্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাবিজ্ঞানী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ইন্সটিটিউটটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইন্সটিটিউট হিসেবে USAID এর অর্থায়নে কলোরাডো স্টেট কলেজের (বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন কলোরাডো) টেকনিকাল সহায়তায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন কোর্সের মধ্যে রয়েছে চার বছরের বি.এড (সম্মান), এক বছরের এম. এড (নিয়মিত), দুই বছরের এম. এড সান্ধ্যকালীন কোর্স, এম. ফিল. ও পিএইচ.ডি.।
পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট: ইস্টিটিউটটি সাধারণত আই. এস. আর. টি নামে পরিচিত। ১৯৬৪ সালে এই ইস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিসংখ্যানবিদ ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বর্তমানে এর পরিচালক হলেন মোহাম্মদ সোয়াইব। এই ইন্সটিটিউটে ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ে চার বছর মেয়াদি বি.এস(সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি এম. এস কোর্সে পাঠদান করা হয়।
ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট
পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
তথ্য প্রযুক্তি ইন

্সটিটিউট
লেদার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউ
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউট:গত তিন দশক ধরে স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে অর্থনীতির একটি প্রধান শাখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যা উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশের শিক্ষাবিদদের স্বাস্থ্যের নির্ধারকদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমরা কীভাবে প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি (আইএইচই) ইনস্টিটিউট, 1998 সালে স্বাস্থ্য অর্থনীতির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখে, যা দক্ষিণ-এশিয়াতে একমাত্র স্বাস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাদান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। IHE শৃঙ্খলা সব অঞ্চলে কাজ করে, পদ্ধতিগত চিন্তাধারা উপর একটি বিশেষ জোর দেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত কোর্স / প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন একাডেমিক ডিগ্রী প্রোগ্রাম প্রস্তাব মাধ্যমে উচ্চ নীতি প্রভাব। এটি তার মানের শিক্ষার জন্য এবং স্বাস্থ্যের পরিমাপের পরিমাপ, কর্মক্ষমতা পরিমাপ এবং উত্পাদনশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন, বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং চিকিত্সা পদ্ধতি, রোগব্যাধি পরিমাপের পরিমাপ, এবং অর্থনীতির পদ্ধতিতে কাজ করার জন্যও পরিচিত।

গ্রন্থাগার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার আঠারো হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে। গ্রন্থাগারে বর্তমানে ছয় লাখ আশি হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য

অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অপরাজেয় বাংলা
সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা
দোয়েল চত্বর
তিন নেতার মাজার
ঢাকা গেইট
স্বাধীনতা সংগ্রাম
স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য
শহীদ মিনার
ঘৃণাস্তম্ভ
মধুদার ভাস্কর্য
সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ
বৌদ্ধ ভাস্কর্য
শহীদ ডা. মিলন ভাস্কর্য

আবাসিক হলসমূহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীকে কোনো না কোনো হলের সাথে আবাসিক/অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে যুক্ত থাকতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১৬ টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫ টি আবাসিক হল রয়েছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল এবং বিদেশী ছাত্রদের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ মোট ২৮ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ২৮ তম উপাচার্য অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান। তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে পূর্ণকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

সমাবর্তন

গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন পোষাক
১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (সর্বমোট ২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর। পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। এরপর ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আরও ১৫ বার সমাবর্তন হয়। পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ সমাবর্তন হয় ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ; সেটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো (৪০তম) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল; কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি। এরপর ৪০তম সমাবর্তন হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এরপর ২০০১ সালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে নিয়মিত ভাবেই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ৪ মার্চ ২০১৭ সালে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক

ছাত্র
শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক,বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি
সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
তাজউদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

জামাল উদ্দিন আহমেদ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা, আবাহনী লিমিটেড (ঢাকা) এর প্রতিষ্ঠাতা
আব্দুল মতিন চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞানী, সদস্য, নোবেল কমিটি

এ কে এম সিদ্দিক, পদার্থবিজ্ঞানী, সদস্য, নোবেল কমিটি ১৯৮১

গোলাম মোহাম্মদ ভূঁঞা, পদার্থবিজ্ঞানী, সদস্য, নোবেল কমিটি

এম এ ওয়াজেদ মিয়া, পদার্থবিজ্ঞানী

অধ্যাপক ড. অনুপম সেন – সমাজবিজ্ঞানী ও একুশে পদক বিজয়ী
খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী, পদার্থবিজ্ঞানী

ইমদাদুল হক খান, পদার্থবিজ্ঞানী

মোহাম্মদ আতাউল করিম, পদার্থবিজ্ঞানী, আইইইই ফেলো

এ এম হারুন-অর-রশিদ, পদার্থবিজ্ঞানী

এম ইন্নাস আলী, পদার্থবিজ্ঞানী

কামরুল হায়দার, পদার্থবিজ্ঞানী

খন্দকার আব্দুল মুত্তালিব, পদার্থবিজ্ঞানী

সুলতানা নুরুন নাহার, পদার্থবিজ্ঞানী

ড. এ এফ

এম ইউসুফ হায়দার, মনোনীত, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ১৯৯৪, ২০১৩

ড. শাহিদা রফিক, মনোনীত, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০১

মুহম্মদ মুনিরুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞানী

সালেহ ফারুক

ফজলুর রহমান খান, পুরকৌশলী, স্থপতি

ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

হাফিজ জি এ সিদ্দিকী, অর্থনীতিবিদ উপাচার্য, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

আব্দুস সাত্তার খান, রসায়নবিজ্ঞানী

ফজলুল হালিম চৌধুরী, রসায়নবিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আবুল হুসসাম, রসায়নবিজ্ঞানী

আবেদ চৌধুরী, জিনবিজ্ঞানী

শাহ মোহাম্মদ ফারুক

শাহ এ এম এস কিবরিয়া, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী

শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, ইসলামী চিন্তাবিদ

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কথাসাহিত্যিক

বুদ্ধদেব বসু, বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সম্পাদক

জাহানারা ইমাম, লেখিকা, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী।

হুমায়ূন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক

হুমায়ূন আজাদ, কথাসাহিত্যিক

রফিক কায়সার, গবেষক,প্রাবন্ধিক

মুহম্মদ জাফর ইকবাল, লেখক।

ড. মুহাম্মাদ মুশতাক হোসেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

শিক্ষক

বিজ্ঞান অনুষদ

সত্যেন্দ্রনাথ বসু
শ্রীনিবাস কৃষ্ণান
এ এম হারুন-অর-রশিদ
ডঃ খোরশেদ আহমদ কবির
গোলাম মোহাম্মদ ভূঁঞা, পদার্থবিজ্ঞানী, সদস্য, নোবেল কমিটি
খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী
ড. জে. কে. খাস্তগীর
ড. মোকাররম হোসেন খন্দকার
এম ইন্নাস আলী
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার
ড. শাহিদা রফিক
আব্দুল মতিন চৌধুরী
ড. এম শমশের আলী
ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম
ড. কাজী মোতাহার হোসেন
ড. মজিদ আহমেদ
ভূপতিমোহন সেন
নলিনীমোহন বসু
নাফিস আহমেদ
ড. অজয় রায়
ড. ললিত মোহন নাথ
ড. হিরন্ময় সেনগুপ্ত
এ কে এম সিদ্দিক
ফজলুল হালিম চৌধুরী

কলা অনুষদ
মহামোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
রমেশচন্দ্র মজুমদার
ডবলু. এইচ. এ. সাদানি
ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
আবু মাহমেদ হাবিবুল্লাহ
ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা
ড. রাশিদুল হাসান
ড. মুনির চৌধুরী
মুহম্মদ আবদুল হাই
ড. কাজী দীন মুহম্ম‌দ
ড. আহমদ শরীফ
ড.সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ড. ওয়াকিল আমেদ
ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ
আনোয়ার পাশা
ড. মাহমুদ হুসাইন
ড. সুশীল কুমার দে
ড.গোবিন্দ চন্দ্র দেব
ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা
ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ড. আনিসুজ্জামান
ড. হুমায়ুন আজাদ
ড. রেহমান সোবহান

বাণিজ্য অনুষদ

ড. আবদুল্লাহ ফারুক
ড. মঈনউদ্দিন খান
ড. হরিপদ ভট্টাচার্য

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
আবদুর রাজ্জাক (জাতীয় অধ্যাপক)
অধ্যাপক ড. অনুপম সেন
সরদার ফজলুল করিম
এ. কে. নাজমুল করিম
আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী
ড. আবু আহমেদ
ড. নাজমা চৌধুরী

জীব বিজ্ঞান অনুষদ
শাহ মোহাম্মদ ফারুক
পি. মহেশ্বরী
ড. হাবিবুল্লাহ খান ইউসুফজাই
ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী
ড. আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী
ড. ইয়াজুদ্দিন আহমেদ
ড. এ. জেড. এম. নওশের আলী খান
ড. এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম (জাতীয় অধ্যাপক)

ফার্মেসী অনুষদ
ড. আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী
ড. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী
ড মহিউদ্দিন আহমেদ কাদেরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক, কর্মকর্তাকর্মচারী এবং তাদের পরিবারকে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। সাধারণ চিকিৎসা ছাড়াও এখানে রয়েছে ডেন্টাল ইউনিট, আই ইউনিট, এক্স-রে বিভাগ এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সুবিধা।

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার উৎকর্ষ সাধন এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থ-সবল জনগোষ্ঠী সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ছাড়াও রয়েছে একটি আধুনিক সুইমিং পুল কমপ্লেক্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিবছর আন্তঃবিভাগ, আন্তঃহল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা করে থাকে

Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

Rajshahi University

12

September, 2018

University Review

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৫৩ সালের ৬ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা ৭৫৩ একরের এই বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ডঃ সোনানি টমাসের পরিকল্পনায় নির্মিত এই ক্যাম্পাসটি যেমন পরিপাটি তেমনই সুন্দর। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ আছে প্রায় ৬০টির কাছাকাছি এবং শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩৫০০০। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পোড়াতে হয়েছিল অনেক কাঠ খড়।
দেশ ভাগের পূর্বে অর্থাৎ ইংরেজ শাসনামলে বর্তমান উত্তরবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার তেমন প্রসার না থাকায় ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহী কলেজ। কিন্তু বছরখানিক পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর যখন সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয় তখন রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনমত গড়ে ওঠে।
১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ১০ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারী এই কমিটি দুটি সভা কর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন এতটাই তীব্র আকার ধারন করে যে ১৫জনেকে সে সময় কারাবরণ করতে হয়। এরপর ১৯৫৩ সালের এক জনসভায় পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী জনাব মাদার বখশ , বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী না হলে রাজশাহীকে আলাদা প্রদেশ ঘোষনার হুমকি দেন। তার এই হুমকি কাজে আসে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইন সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়। এবং একই বছর ৬ এপ্রিল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে।
প্রথমদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হয় রাজশাহী কলেজে।প্রশানিক কাজ চলে পাশের রেশম কুঠিতে। ১৯৫৬ সালে মতিহারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরীর কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ নাগাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ক্যাম্পাসে সম্পুর্ণভাবে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন তৈরী হয়েছিল এক আন্দোলনের মাধ্যমে, তেমনি দেশের স্বাধীনা যুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যার প্রমাণ হয়ে আছেন শহীদ শামসুজ্জোহা,শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার,শহীদ হবীবুর রহমান স্যারদের মত শহীদ বুদ্ধিজীবীরা।

এই বিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষণা ইন্সটিটিউট, ৫টি অনুষদের অধীনে প্রায় ৬০টি বিভাগ। এই সব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ১০টির মত একাডেমিক ভবন। চমৎকারভাবে সাজানো এই ক্যাম্পাসে এক দিকে রয়েছে প্রথম,দ্বিতীয়,তৃ্তীয় ও চতুর্থ নামের চারটি বিজ্ঞান ভবন। অন্যদিকে রয়েছে রবীন্দ্র ভবন, মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন,শহীদুল্লাহ কলা ভবন এবং সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন নামের চারটি একাডেমিক ভবন যা ব্যবহৃত হয় মানবিক এবং বানিজ্য বিষয়ক বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রমে। এছাড়াও কৃষি অনুষদ ও চারুকলার জন্য হয়েছে আলাদা আলাদা ভবন সম্বলিত ক্যাম্পাস যা মূল ক্যাম্পাসের সাথেই লাগোয়া। আইবিএ এর জন্য রয়েছে তাদের নিজস্ব ভবন এবং ক্যাম্পাস। বলাবাহুল্য, কৃষি অনুষদের ব্যবহারিক এবং গবেষণার জন্য রয়েছে নাড়িকেলবাড়িয়া নামক আরেকটি ক্যাম্পাস।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে রাজশাহী,বগুড়া,রংপুর মেডিকেল কলেজ সহ আরো বেশ কিছু স্কুল কলেজ,যার কিছু কিছু এই ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থিত।
দুইটি প্রাসাশনিক ভবন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক প্রধান ফটকের সামনে। তার পাশেই বিশাল কেন্দ্রীয় মসজিদ।মসজিদের সামনেই স্মৃতিসৌধ। একদিকে সিনেট ভবন আর ডীনস কমপ্লেক্স।
ক্যাম্পাসের উত্তর পূর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ছাত্রদের জন্য ১১টি আবাসিক হল ৷প্রতিটি হলের সামনেই আছে বিশাল মাঠ ও পুকুর। ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি আবাসিক হল যা ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ এছাড়াও গবেষক ও বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি রয়েছে। যার নাম শহীদ মীর কাইয়ুম হোসেন ইন্টারন্যাশনাল ডরমেটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তার-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷
বাংলাদেশে একমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। এছাড়াও রয়েছে নিজস্ব সুইমিংপুল,ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেশিয়াম, মন্দির,মেডিকেল সেন্টার,বিজ্ঞান ও প্রেস ভবন,ক্যাফেটেরিয়া, বিশাল তিনতলা বিশিষ্ট লাইব্রেরী, প্রায় তিন হাজার আসন ক্ষমতা সম্পন্ন কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়াম, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন, নিজস্ব ওয়ার্কশপ এবং বাস স্টেশন, বিএনসিসি ভবন, মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা,প্রথম উপাচার্য স্যার জুবেরীর নামে আছে একটি বিশাল গেস্ট হাউজ এবং অগণিত গবেষনা ইন্সটিটিউট।
আর আছে বিখ্যাত প্যারিস রোড। যার বিশাল প্রশস্ত রাস্তার দুইধারে আকাশছোয়া গগণ শিরিশ গাছ। রয়েছে আম ও লিচু বাগান। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে আছে বদ্ধভূমি,সাবাশ বাংলা স্ফুলিঙ্গের মত মনুমেন্ট,লোকাল ট্রেনের জন্য একটি স্টেশন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনে করেছেন বাংলাদশের অনেক অনেক নামী দামী ব্যক্তিবর্গ। যেমনঃ নাট্যকার মলয় ভৌমিক, গণিতবিদ সুব্রত মজুমদার, অভিনেত্রী[ শর্মিলী আহমেদ, সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ক্রিকেটার আল আমীন হোসেন,প্রফেসর এমিরেটাস অরুণ কুমার বসাক স্যার,একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার বিজয়ী সনৎ কুমার সাহা, কবি মহাদেব সাহা, বিচারক কৃষ্ণা দেবনাথ সহ আরো অনেকেই।
পূর্বে সূর্য্য উঠে আলো ছড়ায় মতিহারের সবুজ চত্বরে। গগণ সিরিশের পাতার ফাক গলে রোদ এসে পরে প্যারিস রোডে। কর্মব্যাস্ততা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। টুকিটাকি চত্বর, ওয়ালস্ট্রীট,জুরাসিক চত্বর কিংবা শহীদুল্লাহ আর মমতাজের আম বাগান মুখরিত হয় ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে। দুপুরের অলস ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে গান, নাচ, নাটক,বিতর্ক সহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।শেখ রাসেল,পুকুর পাড়,আম বাগানগুলো সাক্ষী হয়ে থাকে নানান ভবিষ্যৎ স্বপ্নের। এভাবেই কর্ম্ব্যস্ততার মাঝে ঢলে পরে সুর্য।গোধুলীর আগে জুবেরী, সাবাশ বাংলা, হবিবুরের মাঠগুলো ক্লান্ত দাপুটে ছেলে গুলোর জন্য মমতাময়ীর রূপ নেয়। ধীরে ধীরে রাত বাড়ার সাথে সাথে যে যার নীড়ে ফিরে। বাংলাদেশের বুকে মাথা উচু করে স্বগৌরবে বিশাল এক ক্যাম্পাস আর ইতিহাস নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.