05

September, 2018

Admission Test 2018

University of Rajshahi

আইন!

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ।সমাজে সুষ্ঠভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। না না, ভয়ের কিছু নেই। আমরা এখানে আইনের ভালমন্দ নিয়ে কোন আলোচনা করব না। আমরা শুধু দেখব, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য ‘আইন’ বিষয়টি কেমন? কিংবা এই বিষয়ে পড়ে আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে।

প্রথমেই বলে দেই, ‘আইন পড়ে বটতলার উকিল ছাড়া কিছউ হওয়া যাবে না’ কিংবা ‘যার নাই কোন গতি সে করে ওকালতি’ এইধরনের বাক্যের কিংবা প্রবাদের কোন ভিত্তি নেই। এগুলো আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে কারন, আমাদের সাধারন মানুষদের এই বিষয় সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নেই বললেই চলে। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যয়ন প্রথমেই আপনাকে এই সাধারন ভুল ধারনা থেকে বের করে নিয়ে আসবে।
আমাদের সমাজে অনেক আইন প্রচলিত। কোনটা অনেক পুরাতন, কোনটা নতুন। একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আপনার কাছে অনেক আইনই অসামঞ্জস্য লাগতে পারে। আপনি শুধু মাত্র তখনই এই ধরনের আইন নিয়ে কিংবা আইন সংশোধন নিয়ে কাজ করতে পারবেন যখন আপনি সেগুলোর ভেতরের বিষয়গুলি জানবেন এবং সেগুলো কোথায় কিভাবে ব্যবহৃত হয় তা জানবেন। আর এর একমাত্র উপায়, আইনের ছাত্র হওয়া। তাছাড়া আপনি যখন নিজের দেশ সহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবিধান সহ অন্যান্য আইন জানবেন তখন আপনি যেমন নিজের এবং সাধারন মানুষের দায়িত্বকর্তব্য, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন তেমনি সাধারন মানুষের কাতার থেকে বের হয়ে অন্যরকম এক আত্মবিশ্বাসের অধিকারীও হবেন।

এসব তো গেল জানার কথা, বুঝার কথা। এবার আসি আইন পড়ে ভবিষ্যৎ কি? আদৌ কোন চাকুরী হবে তো?

আইনের ছাত্র হিসেবে আপনার সবচাইতে বড় সুবিধা আপনার জন্য বাংলাদেশের নিম্ন আদালতগুলো তৈরীই আছে। অর্থাৎ আইনে পড়ার দরুন আপনি বার কাউন্সিলের সনদ নিয়ে আদালতে এডভোকেট,আইনজীবি হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। চাকুরীর জন্য বসে থেকে হা হুতাশ করতে হবেনা। শুধু মাত্র বাংলাদেশ বার এসোসিয়েশনের সনদের জন্য প্রিলি,রিটেন এবং ভাইভা ফেস করতে হবে। সেগুলো নিয়ে আরেকদিন কথা বলব না হয়।

বাংলাদশের সবচাইতে সম্মানের, ক্ষমতাধর এবং বেশি বেতনের সরকারি চাকুরিরগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘বিচারক’ এর চাকুরী। যাকে সাধারন মানুষ ‘জাজ সাহেব’ বলে আর খাতা কলমে বলে ‘জুডিশিয়াল অফিসার’। তবে এই পদে নিয়োগ পেতে আপনাকে আইনের ছাত্র হতে হবে। অন্য কোন বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করে এই পদে আসার কোন উপায় নেই। এলএল.বি. শেষ করেই আপনি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের আন্ডারে পরীক্ষা দিতে পারবেন। বিসিএসের মত প্রিলি,রিটেন এবং ভাইভা পরীক্ষায় পাশ করলেই আপনি এই পদে আসীন হতে পারবেন। তবে ভয় পাবেন না। বিসিএসের চাইতে খুব কম সময়ের মাঝেই এই প্রক্রিয়া শেষ হয়। আপনি এলএল.এম. অর্থাৎ স্নাতোকত্তর শেষ করার আগেই আপনি এসিস্টেন্ট জাজ কিংবা জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশকৃত হবেন। অপেক্ষা শুধু নিয়োগের।

আপনার যদি উচ্চ শিক্ষার ইচ্ছা থাকে, আপনি আইন পড়ে দেশের বাহিরে যেতে পারবেন, বিশেষ করে লন্ডন। আর আর্থিক অবস্থা ভাল থাকলে আপনি ব্যারিস্টারী করে এসে আদালতে প্র্যাক্টিস করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার সম্মানও বেশ বাড়বে। তাছাড়া ল ফার্ম তো আছেই।

মোদ্দা কথা, বাংলাদেশের তিনটি প্রধান অর্গানের একটি অর্থাৎ বিচার বিভাগের একজন সদস্য হতে চাইলে আইনের ছাত্র হওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। অন্যভাবে বলতে গেলে, শুধুমাত্র আইনের ছাত্র ছাত্রীরাই পারবে বিচার বিভাগের অংশ হতে।

আচ্ছা যদি কেউ এসবের কিছুতেই আগ্রহ খুজে না পায়? তখন? সেক্ষেত্রেও সমস্যা নেই। আপনি আইন পড়ার সুফল সেখানেও পাবেন।
আপনি যে কোন ব্যাংক কিংবা বড় বড় দেশী বিদেশী কোম্পানীর লিগ্যাল অফিসার, এডভাইসার কিংবা লিটিগেশন অফিসার হিসেবে জয়েন করতে পারবেন। আপনি চাইলে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোতে জয়েন করতে পারবেন, জাজ এডভোকেট জেনারেল হিসেবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে, মেডিকেল,লিখিত এবং আইএসএসবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে যদি আপনার বার কাউন্সিলের সনদ সহ দুই বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকে, তবে আইএসএসবি বোর্ড ফেস করার প্রয়োজন হবে না। ছয় মাসের শর্ট কোর্সের পর ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার নিয়োগ পাবেন।

UNESCO,UNISEF,WTO,UN এর মত বড় সংগঠনগুলোতেও তুলনামুলক কম প্রতিযোগিতা করে ভাল পদে নিয়োগ পেতে পারেন। এছাড়া দেশের এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভুমিকা রাখতে চাইলে, আদর্শ রাজনীতিবীদ হতে চাইলে আইন পাঠের বিকল্প খুব কমই আছে। তাছাড়া আপনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত বিসিএস কিংবা ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবেন।

ল স্টুডেন্ট বা আইনের ছাত্র ছাত্রীরা প্রায়ই মজা করেই বলে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া আইনের ছাত্রদের জন্য অন্য সব দরজা খোলা। তাছাড়া ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, রবী ঠাকুর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবাই আইনেরই ছাত্র ছিলেন।

আইন পড়ে মিথ্যা বলা ছাড়া কিছু করার নাই’ প্রবাদটি ভুল। আইন পড়ে যেমন আসহায় মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অংশ নেয়া যায়, তেমনি সমাজের অসঙ্গতি এবং সমস্যা সমাধানেও বিশেষ ভূমিকা রাখা যায়। তাছাড়া চাকুরীর ক্ষেত্রেও আইন পড়ুয়ার কদর প্রচুর।
যত দিন যাচ্ছে, তেমনি ব্যবসা এবং অপরাধ যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি বেড়েছে অপরাধের ধরন। তাই দিন কে দিন আইনের পড়ুয়াদের চাহিদাও বাড়ছে। সবশেষে আমরা বলতেই পারি, স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য বিষয় হিসেবে ‘আইন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সম্মানের।

Want new articles before they get published?
Subscribe to our Awesome Newsletter.

Share This