ভর্তি যুদ্ধের সেনানীগণ,

যুদ্ধের প্রস্তুতি কেমন চলছে?

যুদ্ধে সর্বদাই একদল জয়লাভ করে এবং অন্যদল পরাজয় বরণ করে। তোমাদের মধ্যেও কেউ কেউ তার কাঙ্খিত স্থানে চলে যাবে আর কেউ কেউ হয়তো আশা পূরণ করতে পারবে না।

এটা হচ্ছে রূঢ় বাস্তবতা ।।।

ধরো হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়নি। হয়নি জাবিতেও। এমনকি রাজশাহী-এত দুর এসেও নিরাস

হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। তোমার পছন্দের ১ম সারির কোন বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স হলো না। শেষমেস কোন

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে।

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারলে না এই জন্য ডিপ্রেস্ড?

তবে আজ একটা গল্প বলি …..

২য় বিশ্বযুদ্ধ। হিটলারের নাৎসি বাহিনী প্রাণপণে চেষ্টা করছে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর। তাই হিটলার জার্মানিরঅন্যতম সেরা বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গকে নিয়োগ দিলেন পারমাণবিক বোমা বানানোর জন্য। প্রচুর অর্থ দিয়ে একটি পরীক্ষাগার তৈরি করা হল। হাইজেনবার্গ বেশ ভালোই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

তবে এই তথ্য পেয়ে যান আইনস্টাইন যে তার E=mc2 সূত্র ব্যবহার করে হাইজেনবার্গ পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছিল। তাই সে ও কয়েকজন আমেরিকান বিজ্ঞানী আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এফ.ডি. রূজভেল্ট এর কাছে পারমাণবিক বোমা বানানোর জন্য দরখাস্ত করে।

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমারকে নিয়োগ করেন।

ততদিনে হাইজেনবার্গ অনেকটা এগিয়ে গেছে। একটা সফল ছোট্ট পরীক্ষাও চালিয়েছে সে। তবে তার ২য় পরীক্ষার ভয়াবহতা সম্পর্কে হাইজেনবার্গ ওয়াকিবহাল ছিল না । ফলে প্রচণ্ড তেজস্কিয়তায় তার পরীক্ষাগারে আগুন লেগে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাইজেনবার্গ নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ হন।

এরপর আর হিটলার তারে কোন টাকা পয়সা দেন নি। ফলে জার্মানির পারমাণবিক বোমা বানানোর প্রক্রিয়া এখানেই থেমে যায়।

এদিকে ওপেনহাইমার তার কাজ সবে শুরু করে মাত্র। তবে চলছে খুব দ্রুত। তিনি সুপারনোভার কন্সেপ্ট ব্যবহার করলেন এতে। খুব দ্রুতই তার পারমাণবিক বোমা তৈরি। এই প্রজেক্টের নাম দেয়া হয়েছিল বিখ্যাত “ম্যানহ্যাটন প্রোজেক্ট”।

প্রায় ৩বছর পর ২০০কোটি ডলার খরচ করে ওপেনহাইমার বানালেন বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা।

আইনস্টাইন রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দিয়েছিলেন তাতে ছিল জার্মানি পারমাণবিক বোমা ব্যবহার না করলে আমেরিকা ও ব্যবহার করবে না। হঠাৎই রাষ্ট্রপতি রূজভেল্টের মৃত্যু হল। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন হ্যারি এস. ট্রুম্যান। তিনি আইনস্টাইনের চিঠির তোয়াক্কা না করে জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলার আদেশ দেন। প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।

এতে সারাবিশ্ব যতটা হতবাক ও বিষাদগ্রস্থ ছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতাশ ছিলেন খোদ পারমাণবিক বোমা স্রষ্টা ওপেনহাইমার। ১০ লাখ মানুষ তার আবিষ্কারের জন্য মারা গেছে এই কলঙ্ক বয়ে বেরান তিনি সারা জীবন।

বিশ্বযুদ্ধও শেষ। জার্মানির পরাজয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে হাইজেনবার্গও ধরা পরল আমেরিকানদের হাতে। তবে তারা হাইজেনবার্গকে একটা সুযোগ দেন যে যদি তিনি বলেন যে পারমাণবিক বোমার ক্ষমতা বুঝতে পেরে তিনি ইচ্ছা করেই তা হিটলারকে দেন নি তবে তাকে স্বসম্মানে তার কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এই সুযোগটা হাইজেনবার্গ কাজে লাগান। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন শিক্ষা ও শান্তিকামী বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক মুখ।

অপরপক্ষে ওপেনহাইমাল বাকি জীবনটা এতই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেন যে তিনি আর কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিজেকে জরান নি। বিষণ্ণতা, একাকীত্বতা আর অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করে নিয়েছিল।

অতএব ক্ষণিকের সাফল্য বা ব্যর্থতা কারো জীবন নির্ধারণ করতে পারে না। হয়তো তুমি এখন সফল হওনি। তবে হয়তো তোমার জন্য অপেক্ষা করছে আরো বড় কিছু। লেগে থাকো সৎভাবে। স্বপ্ন জয়ে দেখা হবে।

Share This