EEE (ইইই) | ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক বা ভালাে বাংলায় বৈদ্যুতিন প্রকৌশল | ইঞ্জিনিয়ারিং জগত এর খুবই পরিচিত একটা বিষয় বলতে পারাে সব ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি এবং অন্যান্য ভার্সিটির একটি এলিট সাবজেক্ট। যা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলােচনা করে। নামের মধ্য দিয়েই সাবজেক্ট সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়া যায় যে এটা তড়িৎ সম্পর্কিত ব্যপার নিয়েই এর আলােচনা | দুটো জিনিস ১.ইলেক্ট্রিক্যাল ও ২.ইলেক্ট্রনিক নিয়েই এই বিষয়| ইলেক্ট্রিক্যাল এ আলােচনা করা হয় মুলত হাই-ভােল্টেজের জিনিস পত্র নিয়ে | যেখানে আকারে বড় বড় ইলেক্ট্রিক্যাল জিনিস পত্র নিয়ে বিস্তর আলােচনা |যেমন মনে করাে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন,ইলেকট্রক্যাল মেশিন,পাওয়ার সাপ্লাই ও ম্যানেজমেন্ট, আর ইলেক্ট্রনিক হচ্ছে আকারে ছােট ও লাে-ভােল্টেজের জিনিস পত্র নিয়ে আসলে প্রধান ব্যাপারটা হলাে ইলেকট্রিক্যাল মূলত পরিবাহী ও অপরিবাহী নিয়ে কাজ করে আর ইলেকট্রনিকের ভেলকি হলাে অর্ধপরিবাহীতে। ইলেক্ট্রনিক ব্যপারটা এতই মজার জিনিস যে এর ব্যপকতা শুনলে যে কেউ ই আগ্রহী হয়ে উঠবে |আর যারা রােবটিক্স নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী তাদের কাজ শুরু হয়
ইলেক্ট্রনিক সবচেয়ে পুরনাে এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলাের মধ্যে EEE অন্যতম আভিজাত্যের অধিকারী। আশেপাশের চারদিকে ইলেক্ট্রনিক্সের বিপ্লব দেখে নিশ্চয়ই এই সাবজেক্ট পড়ুয়াদের গুরুত্ব বা চাহিদা আগ বাড়িয়ে বলে দিতে হয় নাহ! এইচএসসিতে প্রিয় বিষয় যদি হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। তুমি নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে| তােমার যদি Equation Solve আর ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলাে যদি  খারাপ না লাগে, তাহলে ইইই তােমাকে হতাশ করবে না কখনােই | তড়িৎ বর্তনী নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে ? রােধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালাে লাগে? তাহলে তােমার জন্যই তাে EEE | EEE পড়তে তােমার উদ্ভবনী ক্ষমতা থাকাটা বেশ জরুরী|এর থেকেও বেশী যেটা লাগবে সেটা হচ্ছে,উদ্ভবন করার স্পৃহা | এই EEE তে তুমি খুব সহজেই তুমি তােমার উদ্ভবনী ক্ষমতা বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারবে। আর আরও একটা মজার জিনিসের সাথে যােগদান করতে পারবে ,আর তা হচ্ছে IEEE (Institute of Electrical and Electronics Engineers) প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়িয়ার ,ছাত্র ও শিক্ষক নিয়েই এই সংগঠন | এখানে তুমি যােগাযােগ স্থাপন করতে পারবে বিশ্বের বড় বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে দেখতে পারবে বর্তমান বিশ্বের নতুন আবিষ্কার | IEEE তে প্রকাশিত রিসার্চ জার্নালগুলােকে বিশ্বের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বের সাথে দেখা এবং পড়া হয়। বুঝতেই পারছ কত ওয়েটফুল একটা প্রতিষ্ঠান। আর নিজের আবিষ্কার গুলাও তুলে ধরতে পারবে এখানে | আর তােমার আবিষ্কার যদি হয় মানব কল্যাণমূলক তাহলে IEEE তােমাকে বেশ ভাল মানের স্কলারশিপ দিবে তােমার কাজকে আরও সামনে সামনে এগিয়ে নিতে ।

EEE আসলে বেশ বড় একটা ক্ষেত্র। পরিসরও অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। 233 এর প্রধান ডিভিশন গুলাে । হচ্ছে1.Power 2.Electronics 3.Telecommunication 4.Computers Power সেক্টরের ব্যাপারটা মনে হয় সবাই এমনিতেই বুঝতে পেরেছে। যারা বিদ্যুত উৎপাদন আর সরবরাহের দায়িত্বে থাকে| এই সেক্টরের চাহিদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রচুর চাহিদা পুরনের জন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। আর পদ্মাপাড়ের পাবনা রুপপুরে নব নির্মিত নিউক্লিয়ার প্লান্টে EEE ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা আছে। আর এখানে বেশ আকর্ষনীয় বেতন অফার হয়েছে।

আর এই সেক্টরের পুরাে দায়িত্বই থাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে। যারা নিজেকে একজন Power management engineer হিসেবে দেখতে চাও, তারা নিঃসঙ্কোচে EEE নিতে পারাে। Electronics নিয়েও সবাই হালকা পাতলা কিছু জানে | এখনকার সময়ে তােমরা যত ডিভাইস দেখ, তার বেশিরভাগই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট দিয়ে ডিজাইন করা | স্মার্টফোন, আইপ্যাড, নােটপ্যাড, ল্যাপটপ সবগুলােই ইলেক্ট্রনিক্সের অবদান | Microcontroller এর নাম হয়তাে কেউ কেউ শুনে থাকবে| যেখানে প্রােগাম লিখে ছােট ছােট জিনিস পত্র কন্ট্রোল করা যায়। রােবটিক্স নিয়ে পড়াশােনার ব্যাপক ইচ্ছা যাদের, তাদের জন্য microcontroller হলাে একেবারে শুরুর ধাপ| তবে হ্যা, এদিক দিয়ে আগাতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী
আর উদ্যমী । হতে। | হবে| Telecommunication, যােগাযােগ নিয়ে কাজকারবার| মােবাইল ফোন কোম্পানিতে মাঝের কয়েক বছর EEE ইঞ্জিনিয়ারদের বিশাল চাহিদা ছিলাে | আমাদের মত দেশে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, কভারেজ তৈরিসহ সমগ্র সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছে বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার| শুধু এক Grameenphone এই এখন কাজ করছে প্রায় ৫ হাজার প্রকৌশলী, যার বেশিরভাগই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ব্যাকগ্রাউন্ডের| যত নতুন নতুন টেকনােলজি আসবে, অত চাহিদা Expand করবে| যারা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত Telecommunication Engineer হিসেবে দেখতে চাও, তাদের জন্য অবশ্যই EEE. আবার অনেকেই আছে ওয়ারলেস নেটওয়ার্কিং এ গবেষণাতে আগ্রহী তাদের জন্যও দরকার EEE বা ETE ব্যাকগ্রউন্ড থাকা । Computer আসলে এমন এক ব্যাপার যাকে কোন কিছু থেকেই আলাদা করা যাবে না| ইইই থেকে পড়ে পরবর্তীতে Software Engineer হয়ে গিয়েছে এমন উদাহরনও আছে অনেক। তুমি যদি প্রােগ্রামিং ভালাে বােঝ, কম্পিউটারে ভালাে দখল থাকে, তবে ইইই পড়েও তুমি খুব সহজেই CSE সাইডে Divert হতে পারাে |কারণ , EEE ইঞ্জিনিয়ারদেরকে প্রােগ্রামিং এ ও দক্ষ করে গড়ে তােলা হয় |কেননা , সার্কিট এর প্রােগ্রামিং এর জন্য প্রােগ্রামিং এ ভাল করতে হয় | EEE পড়েছ বলে যে তুমি প্রােগ্রামার হতে পারবে না বা সফটওয়্যার বানাতে পারবে না এমন ধারণা পুরােপুরি ভুল। তােমার যদি Electronics এর পাশাপাশি সফটওয়্যার নিয়েও ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি সহজেই ইইই নিতে পারাে | এখানে এই সুযােগ প্রচুর |আর এখানেই ইইই এর পরিধি যে কত ব্যাপক তা বুঝতে পারতেছ। EEE এর কর্মক্ষেত্র নিয়ে আসলেই কোন কথা বলা চলে না | যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না কখনােই হয়তাে দেশের বাইরেও রয়েছে হাজার হাজার গবেষণা ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই মর্যাদাপূর্ণ একটা জায়গাতে থাকবে | চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন
শােনা কথায় কান দিতে যেয়াে না| যােগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে তােমাকে একদিনও বসে থাকতে হবে না| তুমি ঠিকই তােমার Deserving পজিশনে যেতে পারবে| আর salary | শুধু দেশেই যে ভাল salary নিয়ে জব করতে হবে এমন নয় | দেশের বাইরেও EEE ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন বেশ আকর্ষনীয় | গুগলে সার্চ করলেই প্রমাণ দেখতে পাবে। দেশের মধ্যে সরকারী ক্ষেত্রে রয়েছে পিডিবি,পল্লীবিদ্যুত,বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন,বাংলাদেশ রেলওয়েসহ অনেক অনেক ক্ষেত্র! আর দেশের বাহিরেও রয়েছে অসংখ্য ক্ষেত্র! আর তাইতাে বলছি চলে এসাে তড়িতের এই অভাবনীয় দুনিয়ায়। যে পথ ধরে হেটেছেন ভােল্টা,ফ্যারাডে,টেসলা… সে পথ অপেক্ষা করছে তােমারই জন্য। ইইই স্টুডেন্ট দের একটা উক্তি দিয়ে আজকের লেখা শেষ করি…

“Electricity rules civilization, We(EEEians) rule electricity”

Share This