হ্যালাে বন্ধুরা, তরঙ্গের ইতিকথায় তােমাদের আবারাে স্বাগতম । আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভালাে আছ। তাে কেমন লাগছে এই তরঙ্গের পৃথিবী! আশাকরি ভালাে । তাে বন্ধুরা আমরা তরঙ্গের ইতিকথার ৭ টি পর্ব শেষ করে ফেলেছি। তাই ইতিমধ্যেই তােমরা অনেক কিছুই জেনে ফেলেছাে এবং শেষ দুই পর্বে তােমরা তরঙ্গের সমীকরণ শিখেছাে । আজ তােমাদের আরাে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্ম সম্পর্কে ধারণা দেবাে যেগুলাে তরঙ্গকে জানার জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশাকরি প্রতিবারের মতাে এবারাে তােমরা চট করে শিখে। ফেলবে সেগুলি…
তাে বন্ধুরা গতপর্বে আমরা সম্পূর্ণভাবে তরঙ্গের সমীকরণ এবং সমীকরণের টার্ম গুলাে কী বােঝায় তা শিখে ফেলেছি। তাে সেখানে যে টার্ম গুলাে ছিলাে সেগুলি হলাে:..

y = Asin(wt +∅ )

y =সরণ
A =বিস্তার
w = কৌনিক বেগ
t = সময়
∅ = দশা পার্থক্য

তাে এগুলি তাে আমরা জেনে ফেলেছি। এখন আমরা আরাে যে কটি টার্ম শিখব সেগুলি হলাে…
T = পর্যায়কাল
f = কম্পাঙ্ক
v = বেগ
𝛌 = তরঙ্গদৈর্ঘ্য

তাে প্রথমেই আসা যাক পর্যায়কাল বা “T” তে। তাে পর্যায়কাল বলতে স্বভাবতই পর্যায় জিনিসটা চলে আসে তাই না? আর পর্যায় এর সাথে তাে আমাদের বহু পুরােনাে পরিচয়! সেই প্রথম দিনেই ইতাে বলেছিলাম পর্যায়বৃত্ত গতি বা রিপিটেশন এর কথা! তাে পর্যায় তাে না হয় বােঝা গেলাে! তাহলে পর্যায়কাল ? দেখাে, পর্যায় + কাল = পর্যায়কাল ! তাে পর্যায় = রিপিটেশন; কাল = সময়! তাহলে সবটা মিলে কী হলাে বলােতাে ? রিপিটেশন বা পর্যায় ঘটতে যে সময় লাগে সেটিই তাে পর্যায়কাল! বুঝেছ বন্ধুরা ? আচ্ছা না বুঝলেও সমস্যা নাই! বুঝিয়ে দিচ্ছি এখনই…

আমাদের অতি চেনা কিছু দিয়েই শুরু করা যাক চলাে । জিনিসটা হলাে দেয়ালঘড়ি। আসলে আমাদের চারপাশে যে এত পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। তাে আশাকরি দেয়ালঘড়ির উদাহরণ দিলে তােমাদের ভেতর পর্যায়কালের কনফিউশনটা দূর হয়ে যাবে। তাে আমরা শুধু এখন মিনিটের কাটাটা কনসিডার করি চলাে। ধরে নিই বাকিগুলাে এখন নেই । তাে এখন ছবিতে আমাদের মিনিটের কাটা কোথায় আছে ? 2 এর ঘরে। তাে বন্ধুরা চিন্তা করাে যে এই যে মিনিটের কাটাটা ২ এর ঘরে আছে, তাে এই ২ এর ঘর থেকে বের হয়ে আবার দুই এর ঘরে আসতে এর কত সময় লাগবে ? মিনিটের কাটা একবার ঘুরে এলে কত সময় হয় ? ঠিক বলেছাে, ১ ঘন্টা ! তাে পর্যায়কাল তাে ছিলাে পর্যায় + কাল অর্থাৎ রিপিটেশন হবার জন্য প্রয়ােজনীয় সময়। তাে ২ এর ঘর থেকে ২ এর ঘরেই আবার ফিরে এলাে মিনিটের কাটা ! তাে রিপিটেশন হলাে না বন্ধুরা ? অবশ্যই হলাে ! এখন এই রিপিটেশন এর জন্য সময় কত লাগল বলাে তাে? ঐ যে আমরা তাে আগেই বের করে রেখেছি! ১ ঘন্টা ! তাহলে ঘড়ির মিনিটের কাটার পর্যায়কাল হলাে ১ ঘন্টা বা ৬০ মিনিট বা আমরা যদি সেকেণ্ডে হিসেব করি, তবে তা হবে ৩৬০০ সেকেণ্ড। সুতরাং আসল কথা এই যে একটা রিপিটেশন করতে কত সময় লাগল! সেটাই হলাে পর্যায়কাল। একটা বিষ্য খুব ভালােকরে খেয়াল রেখাে বন্ধুরা যে পর্যায়কাল হিসেবের ক্ষেত্রে আমরা দেখব রিপিটেশন বা পর্যায় যেনাে ১ থাকে। একটি পর্যায় হতে ঠিক যতটুকু সময় লাগে সেটিই পর্যায়কাল। পৃথিবী তার নিজ অক্ষ বরাবর মােটামুটী ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘােরে,আর এজন্যই দিন রাত্রি হয়! তাহলে একবার অক্ষ বরাবর ঘােরার বা আহ্নিক গতির পর্যায়কাল কত হলাে? ঠিক, ২৪ ঘণ্টা। তাে এই হলাে পর্যায়কাল বা T। আশাকরি এখন বিষয়টা ক্লিয়ার সবার কাছে।

তাে চলাে এবার তাহলে যাই কম্পাঙ্ক বা f এর দিকে। তাে বন্ধুরা কম্পাঙ্ক বা f হলাে ঠিক পর্যায়কাল বা T এর বিপরীত রাশি। অর্থাৎ f=1/T . তাে তাহলে সংগাটাও তাহলে উল্টোই হবে,তাই না? তাে চলাে এবার দেখে নিই কম্পাঙ্কের সংগা । ১ সেকেণ্ডে যতগুলি পর্যায় বা রিপিটেশন শেষ হলাে সেটাই প্রকাশ করে কম্পাঙ্ক । তাে আগের ঘড়ির উদাহরণ টা দিয়েই আবার দেখা যাক চলাে। সেবার বের করেছিলাম পর্যায়কাল আর এবার বের করব কম্পাঙ্ক । তাে ঘড়ির মিনিটের কাটার পর্যায়কাল ছিলাে ১ ঘন্টা বা ১ রিপিটেশনের জন্য সময় লেগেছিলাে ১ ঘন্টা। এখন যেহেতু f=1/T সেহেতু আমরা বলতে পারি মিনিটের কাটার কম্পাঙ্ক হলাে ১/১ ঘন্টা । কারণ T= ১ ঘণ্টা। এখন আমরা জানি এস আই এককে সময়ের এক সেকেণ্ড। তাই আমরা সবকিছুই সেকেণ্ডে হিসেব করব। তাে সেক্ষেত্রে পর্যায়কাল দাঁড়ায় T= ১ ঘন্টা = ৩৬০০ সেকেণ্ড। আর তাহলে কম্পাঙ্ক কত হচ্ছে বলােতাে? ১/৩৬০০ অর্থাৎ ০.০০০২৮ সেকেণ্ড১. এখানে একটা জিনিস খেয়াল করাে বন্ধুরা যে পর্যায়কাল একটা সময়। একটা পর্যায় শেষ হতে যতটা সময় লাগে সেটাই পর্যায়কাল । অপরদিকে কম্পাঙ্কের ক্ষেত্রে কিন্তু সময় টা নির্দিষ্ট। কাজেই সেইক্ষেত্রে সময়টাই ফিক্সড এবং তা ১ সেকেণ্ড । কাজেই এক সেকেণ্ডে যতগুলি পর্যায় সম্পন্ন হলাে সেটাই কম্পাঙ্ক । আর এজন্যই কম্পাঙ্কের একক হলাে সময়ের এককের বিপরীত অর্থাৎ সেকেণ্ড-১,আর আমরা তাে আগেই বলেছি যে পর্যায়কাল আর কম্পাঙ্ক একে অপরেরে বিপরীত রাশি! সুতরাং বন্ধুরা আশাকরি আর কোনাে কনফিউশন আশাকরি হবে না তােমাদের।।

এবার তােমাদের আজকের শেষ যে টপিক নিয়ে কথা বলব তা হলাে বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
তাে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা 2 নিয়ে কথা বলার আগে চলাে আমরা চট করে আরেকবার তরঙ্গের ছবিটা দেখে আসি।

তাে বন্ধুরা, আমরা এর আগে দশার কথা বলেছি। অর্থাৎ তরঙ্গিস্থ প্রতিটি কণার ভৌত অবস্থাই দশা। এখন তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা তরঙ্গের দৈর্ঘ্য বলতে আমরা সেটুকু দৈর্ঘ্য বুঝব যে দৈর্ঘ্য তরঙ্গের দুই সমদশায় অবস্থিত কণার মধ্যকার দুরত্বটাকে বােঝাবে। যেহেতু দশা বিষয়টা তােমরা ক্লিয়ার কাজেই কখন দুইটি কণা সমদশায় সেটি বের করতে আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। তাে তবুও উপরের ছবিটায় দেখাে। তােমাদের সুবিধাত জন্য সমদশার স্থানগুলিতে স্টার এবং ডট মার্ক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমরা তরঙ্গদৈর্ঘ্য বের করতে। চাইলে এক স্টার মার্ক থেকে আরেক স্টার মার্ক বা এক ডট পয়েন্ট হতে আরেক ডট পয়েন্ট,যেকোনাে একটি দুরুত্ব মাপলেই আমরা তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা 2 মেপে ফেলতে পারি ! তাে বন্ধুরা, আশাকরি তােমরা তরঙ্গদৈর্ঘ্য কী তা বুঝতে পেরেছাে। তােমাদের সুবিধার্তে আরাে একটি ছবি দেয়া হলাে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিষয়ে,আশাকরি, এর পর আর কোনাে কনফিউশন থাকবে নাহ !

তাে বন্ধুরা, আমরা আজকে এখানেই শেষ করছি। আশাকরি তােমরা পর্যায়কাল,কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক ভালােভাবে বুঝতে পেরেছ। মনে রেখাে বন্ধুরা এই টার্ম গুলি কিন্তু সবসময়ই কাজে লাগবে তরঙ্গের ক্ষেত্রে। কাজেই টার্মগুলির উপর স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক! তাে আজ এইটুকুই,আশাকরি সামনের দিন তরঙ্গের আরাে একটী মজার বিষয় নিয়ে তােমাদের সামনে হাজির হবাে । ততােদিন পর্যন্ত ভালাে থেকো।

হ্যাপি লার্নিং…

 

Share This