হ্যালাে বন্ধুরা,আশাকরি ভালাে আছাে সবাই। আজ আবার তােমাদের নিয়ে যাব তরঙ্গের ভূবনে। তাে বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে তরঙ্গ এবং এর বৈশিষ্ট্য গুলি সম্বন্ধে জেনেছি৷এছাড়াও আমরা তরঙ্গের প্রকারভেদ এবং তাদের ধর্মাবলিও জেনেছি।তাে গতপর্বে আমরা যান্ত্রিক ও তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং শেষটায় বলেছিলাম যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের গতি ৩ × ১০ মিটার/সেকেণ্ড। আজ তার রহস্য উদঘাটন হবে…

তাে আমরা দেখেছিলাম তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ চলে শুণ্য মাধ্যমে। তাে এই শূন্য মাধ্যমে চলার কথা যখন আসল তখন বিজ্ঞানীদের এই তত্ত্ব মেনে নেবার মতাে মানসিকতা তৈরী হয় নি! কারণ শুন্য মাধ্যমে আবার তরঙ্গ কীভাবে চলে! তার আগে দুই একটি কথা বলে রাখা ভালাে। প্রত্যেক তরঙ্গের কিছু বৈশিষ্ট্য বা গুণ আছে৷ তরঙ্গ হলেই সে এইসব গুনাবলির অধিকারী হবে। তাে এসবের ভেতর অন্যতম হলাে ব্যাতিচার বা ইংরেজিতে যাকে বলে ইন্টারফেরেন্স। ব্যাতিচারের ব্যাপারে আরেকদিন ডিটেইলে কথা হবে,আজ শুধু এটুকু বলি যে দুইটি একদম একই রকম দেখতে তরঙ্গ একটি অপরটির সাথে মিলিত হলে তারা তরঙ্গের কোথাও কোথাও দুইজন একত্র হয়ে যাবে,আবার কোথাও কোথাও দুইজন মারামারি করে কিছুই রাখবে না! অর্থাৎ আমরা খুব স্পষ্ট বা উচু কিছু পয়েন্ট পাবাে তরঙ্গে আর কিছু একদম সমতল পয়েন্ট ঠিক নিচের ছবিটার মতাে•••

মনে করাে তােমার স্কুলে তুমি ছাড়া কেউ ই মানে কেউ ই কাগজের প্লেন বানাতে পারে না। এখন যদি স্কুলে একটি কাগজের প্লেন পাওয়া যায়,তাহলে নিশ্চই ই সেটা তুমি বানিয়েছ,তাইনা? এই যে এখানে দেখাে কাগজের প্লেনের পাওয়া তােমার উপস্থিতি জানান দিলাে। ঠিক একইভাবে এই ব্যাতিচার নামক ধর্মটি জানান দেয় যে এটি একটি তরঙ্গ! কাজেই ব্যাতিচারের ঘটনা যে ই সৃষ্টি করতে পারবে,তাকে আমরা তরঙ্গ বলতে বাধ্য! কারণ তরঙ্গ ছাড়া এ কীর্তি করা আর কারাে কাম্ম নয়!

এবার আসি আসল কথায়।১৮০১ সালে টমাস ইয়ং নামের এক ভদ্রলােকের মাথায় কী ভূত চাপলাে কে জানে,সে আলাে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে বসে গেলাে! সে একটা বাের্ডে খুব কাছাকাছি দুইটা সূক্ষ্ম ছিদ্র করে পেছন থেকে আলাে পাঠিয়ে দিলাে! কিন্তু এর পরে বাের্ডের সামনে পর্দায় দেখা গেলাে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! আলােও ঠিক পানির তরঙ্গের মতােই ব্যাতিচার ধর্ম দেখিয়েছে! ফলে পর্দার আলাে এবং আধার বিন্দুর সমন্বয় দেখা গেছে! এখন বলাে বন্ধুরা, আলাে ব্যাতিচার ধর্ম দেখিয়েছে! যেটি কেবল এবং কেবলই তরঙ্গ করতে পারে! তাহলে বন্ধুরা আমরা আলােকে কী বলব বলাে তাে? ঠিক বলেছাে,আমরা আলােকে তরঙ্গ বলব। কিন্তু আলােকে তরঙ্গ বলায় কিছু গােল বাধলাে! মহাবিশ্ব থেকে আলাে তাে প্রায় সবখানে যায়! কিন্তু সেখানে তাে মাঝখানে কোনাে বাতাস বা মাধ্যম নেই!আমাদের পৃথিবীতেও তাে আলাে আসে সেই কত দূরের সূর্য থেকে। আলাে না হয় তরঙ্গ সে মেনে নিলাম! কিন্তু এই তরঙ্গ কীভাবে চলে! কাজেই তখন বিজ্ঞানীরা ভাবলাে যে মহাবিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এমন কোনাে মাধ্যম আছে! যার খােজ এখনাে তারা পাননি! বিজ্ঞানীরা এই অজানা মাধ্যমের নাম দিলেন ইথার! ইথার মহাবিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এবং আলাে বা কোনাে তরঙ্গের গতিতেই বাধার সৃষ্টি করে নাহ!

বিজ্ঞানীদের অনেকেই যখন এই ইথার মতােবাদ নিয়ে তুষ্ট তখন স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এক অব্যর্থ ব্রহ্মাস্ত্র নিয়ে হাজির হলেন দুই বিজ্ঞানী এ.এ মাইকেলসন আর ই.ডাব্লিও মর্লি। ১৮৮৭ সালের জুলাই মাসে তারা তাদের যন্ত্র দিয়ে নিঃসংকোচে প্রমাণ করে দিলাে যে মহাবিশ্বে ইথার বলে কিছু নাই৷ তাে বিজ্ঞানীরা তার পর মেনে নিলেন যে আলাে এক তরঙ্গ এবং এটি শূন্য মাধ্যমে চলার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তরঙ্গ! এদিকে আরেক জিনিয়াস মার্ক ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আগেই১৮৬১-৬২ সালে বলে দিলেন যে তড়িতক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রের সমকোণে আলােডােনে যে তরঙ্গ হয় সেটি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ! আর তিনি তার বিখ্যাত সমীকরণ

দিয়ে সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ সেই আলাের বেগের সমান! কাজেই বিজ্ঞানীমহলে অতি নিশ্চিত এবং শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাে যে

১)আলাে একটি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং সকল তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের মতাে তা শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে৷
২)শুন্যস্থানে আলােসহ সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ সমান এবং তা ৩*১০ মিটার/সেকেণ্ড।
সুতরাং বন্ধুরা,তােমরা আশাকরি বুঝেছ যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ কেন ৩*১০ মিটার/সেকেণ্ড বা আলাের বেগের সমান। সামনের পর্বে আমরা আবারাে তরঙ্গ নিয়ে আলােচনা করব এবং সেদিন আমরা তরঙ্গের গাণিতিক রূপ,চিত্র এবং দু একটা ধর্ম সম্বন্ধে কথা বলব…

তবে যাবার আগে একটা গােপন কথা বলে যাই বন্ধুরা! এই যে এত বিজ্ঞানী খেটেখুটে প্রমাণ করল। যে আলাে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ তাতেও সন্দেহ প্রকাশ পেলাে কিছুদিনের মধ্যেই! ম্যাক্স প্ল্যাংক আর আলবার্ট আইনিস্টাইনের মতাে কিছু যুগান্তকারী বিজ্ঞানী বদলে দিলাে আলাের ইতিহাস! আসলে বিজ্ঞানের কাছে কোনকিছুই যে পরম বা এবসুলেট নয় সেটাই যুগে যুগে প্রমাণিত হয়ে আসছে! তবে আলাের কথায় আমরা যাব তরঙ্গ শেষ করে! তবে একটা কথা বলে রাখি, আলাে যে প্রকৃতপক্ষে কী তা আজ পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারে নি!কী অবাক হলে খুব? বিশ্বাস না হলে একটু গুগুলে ঢু মারাে! তাে বন্ধুরা,আজ এততুকুই।সামনের পর্বে আবার তােমাদের মাঝে ফিরে আসব তরঙ্গের ইতিকথা নিয়ে। ততােদিন অবদি হ্যাপি লার্নিং…

Share This