আজ আবার তােমাদের স্বাত্তম জানাই তরঙ্গের দুনিয়ায়! গতবার আমরা দেখেছিলাম যে তরঙ্গ হবার জন্য কী কী শর্ত লাগে। তারপর আমরা কোন কিছু তরঙ্গ হবে কী হবে না সেটা ঐ শর্ত দিয়ে প্রমাণ করেছিলাম। এবার আসি তরঙ্গের প্রকারভেদে! যেহেতু আমরা এখন জানি যে তরঙ্গ কী এবং কীভাবে কাজ করে,এছাড়াও আমরা জানি যে তরঙ্গ হবার জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়,তাই আজ আমরা তাে তরঙ্গ কত প্রকার ও কী কী সে দিকে একটু উকিঝুকি মারতেই পারি,কী তাই না? তাহলে চলাে আজ দেখে ফেলি তরঙ্গ কত রকমের আছে!

তরঙ্গের প্রকারভেদের ব্যাপারে সবচেয়ে ভালাে দিক হলাে, তরঙ্গের বেশি প্রকারভেদই নাই! তুমি যেভাবেই বিচার করাে না কেনাে যে তরঙ্গকে দুই ভাগেই ভাগ করতে পারবে!এখন কথা হলাে যে তুমি তাকে কীসের ভিত্তিতে ভাগ করবে। যদি তুমি তরঙ্গকে তার চলার উপর ভিত্তি করে ভাগ করাে তবে তাকে দুইভাবে ভাগ করতে পারবে,
1/অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
২/অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
আবার তুমি যদি তাকে তার চলার মাধ্যম আছে কী নাই তার উপরে ভিত্তি করে ভাগ করাে,তাহলেও দুই রকমের তরঙ্গ পাবে, ১। যান্ত্রিক তরঙ্গ
২/তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
কী,মনে পড়ল কিছু? একটা নাম তাে মনে হয় সবারই খুব পরিচিত! আর সেটা হলাে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ!কী ঠিক তাে? তবে তরঙ্গের এই চির রহস্যময়ীকে নিয়ে আজ আমরা কথা বলব নাহ! আমরা আজ কথা বলব তরঙ্গের প্রকারগুলি নিয়ে•• তাে কথা বলছিলাম তরঙ্গের প্রকারভেদ নিয়ে! তাে আমরা দেখলাম যে দুইভাবে ভাগ করে প্রতিবারেও আবার আমরা তরঙ্গকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি। তাে প্রথমে আমরা অনুদৈর্ঘ্য এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গ নিয়ে কথা বলব এবং পর্যায়ক্রমে যান্ত্রিক এবং তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করব।

তাে প্রথমে আসি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের কথায়,আমরা জানি তরঙ্গ হতে হলে তাকে দুইটা শর্ত ঠিক ঠিক মানতে হবে! প্রথমটি যে তার কণাগুলির পর্যাবৃত্ত আন্দোলন হতে হবে! আর দ্বিতীয় হলাে যে কণাগুলি স্থানচ্যুত না হয়েই কেবল আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তি ও তথ্য আদান প্রদান করবে।এখন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গও নিশ্চই এই শর্ত গুলি মেনে চলে! নয়ত তাে আমরা তাকে তরঙ্গই বলতাম না!ঠিক তাে?
তাে তাহলে একে কেনৈ বা অনুদৈর্ঘ্য বলব আর অনুপ্রস্থের সাথে এর তফাতটাই বা কী,সেটাই তাে প্রশ্ন তাই
? তাে চলাে সব সন্দেহ দূর করে দেই তােমাদের অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলব তাদেরকেই যাদের তরঙ্গের কণাগুলি মাধ্যমের সাথে বা যেখানে তরঙ্গ যাবে সেখানকার সাথে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হবে! এখন বিষয়টা কীভাবে ঘটছে তা বােঝার জন্য একটা স্প্রিং এর কথা চিন্তা করা যেতে পারে। স্প্রিং তাে আমরা সবাই দেখেছি তাই না? স্প্রিং কে টেনে ছেড়ে দিলে তা একটি নির্দিষ্ট সময় অব্দি দুলতে থাকে এবং একসময় থেমে যায়! একটা জিনিস জানাে কী তােমরা,যদি স্প্রিং বাতাসের সাথে ঘষা না খেতাে এবং আরাে কতকগুলি বিষয় কে নির্দিষ্ট করতে পারলে আমরা এমন স্প্রিং পাবাে যাকে তুমি একবার দুলিয়ে দিলে সারাজীবন দুলতে থাকবে!এরকম একটা দোলনা থাকলে মন্দ হতাে না,কী বলাে?
তাে যাই হােক,সেরকম দোলনা থাক বা নাই থাক, আমরা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে ফিরে আসি। তাে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের কণাগুলির চলাফেরা হুবুহু স্প্রিং এর মতােই! স্প্রিং যেমন সংকোচন আর প্রসারণের মাধ্যমে দুলতে থাকে,এই কণাগুলিও একইভাবে সামনে পেছনে সংকুচিত আর প্রসারিত হতে থাকে! এই সংকোচন প্রসারণ দ্বারা এই তরঙ্গ ক্রমাগত এগিয়ে চলে! এই যে তরঙ্গটা এইভাবে এগিয়ে চলে, এজন্যই এবং এর ভিত্তিতেই বলা হয়েছে একে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ!অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের একটা চেনা উদাহরণ দাও তাে!এই যে তুমি আমি কথা বলছি,গান শুনছি কীভাবে বলাে তাে? ঠিক ধরছ,শব্দ!!! শব্দ কিন্তু একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ…
তাহলে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বােঝা গেছে আশাকরি…
এবার আসি অনুপ্রস্থ তরঙ্গের প্রসঙ্গে৷ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের সাথে অনুদৈর্ঘ্যের বেশ অমিল আছে কিন্তু! আমরা দেখলাম যে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ চলল সংকোচন আর প্রসারণের মাধ্যমে। এখন দেখা যাক অনুপ্রস্থ কীভাবে চলতেছে! অনুপ্রস্থ তরঙ্গের কণাগুলি চলে মাধ্যমের সাথে ঠিক ঠিক সমকোণে! তার মানে তরঙ্গের একটি কণা মাধ্যমের সাপেক্ষে সর্বদা সমকোণে থেকে আন্দোলিত হবে! ফলশ্রুতিতে সমকৌণিক আন্দোলন দ্বারা তরঙ্গ অগ্রসর হবে! মানে কণাগুলি সবাই সমকোণে অবস্থান করে আন্দোলিত করবে! ঠিক যেমনটি করে পানির তরঙ্গের বেলায়! পানিতে ঢিল ছুড়ে যে তরঙ্গ দেখতে পাও তা কিন্তু এই অনুপ্রস্থ তরঙ্গ! বাস্তব জীবনে আমদের দেখা অধিকাংশ তরঙ্গই অনুপ্রস্থ! মজার ব্যাপার যে মাধ্যমের দিকের সাথে কনাগুলির যে এই সমকোণে সর্বাত্মক অবস্থান, এই জন্য এই তরঙ্গকে খুব সুন্দর করে গ্রামে আকা যায়! তােমরা যারা ত্রিকোনমিতির জগতে উকিঝুকি দিয়েছাে,তারা অবশ্যইন দেখে থাকবে যে এই অনুপ্রস্থ তরঙ্গের চিত্রের সাথে সাইন ফাংশনের চিত্রের একদম হুবুহু মিল! আশাকরি তােমরা সবাই অনুদৈর্ঘ্য আর অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কী তা বুঝেছাে! এবার চটপট করে এই দুই তরঙ্গের মধ্যকার পার্থক্য লিখে ফেলি সবাই! তাহলে সবার ধারণা আরাে । স্পষ্ট হবে এ ব্যাপারে•••
তাে আজকের মতাে এটুকুই,পরের দিন আমরা তরঙ্গের আর দুই প্রকারভেদ অর্থ্যাত যান্ত্রিক তরঙ্গ আর তােমাদের আকাঙ্খিত তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে কথা বলব! ততােদিন অবদি সবাই ভালাে থেকো! হ্যাপি লার্নিং!

Share This