This entry is part 4 of 4 in the series তড়িত তাণ্ডব

হ্যালাে বন্ধুরা, আশাকরি ভালাে আছাে সবাই! তড়িত তাণ্ডবের আরাে একটি পর্বে তােমাদের জানাই স্বাগতম । তড়িত এর পৃথিবী অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত এতে সন্দেহ নাই। আমরা এর সবটাই জানার চেষ্টা করবাে,তবে ধীরে ধীরে। গতপর্বে তােমাদের সাথে অপরিবর্তী প্রবাহ বা ডিসি নিয়ে কথা বলেছি, আজ কথা বলব পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি নিয়ে।

তাে বন্ধুরা, আমরা ডিসি তে দেখেছি যে ডিসি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় না! অর্থাৎ ডিসি তে কারেন্ট বা ভােল্টেজ থাকে কনস্টান্ট। তাে এসি যেহেতু পরিবর্তী প্রবাহ, সেহেতু এখানে নিশ্চই সময়ের সাথে প্রবাহ এবং বিভবের পরিবর্তন হবে! আমাদের বর্তমান আশেপাশের প্রায় সবকিছুই কিন্তু এসি নির্ভর! তাই আমাদের। এসি সম্বন্ধে জানাটা সত্যিই খুব জরুরী। তাে যেহেতু সময়ের ওপর এই কারেন্ট বা ভােল্টেজ নির্ভরশীল, কাজেই আমাদের প্রথমেই জানতে হবে যে এ পরিবর্তী প্রবাহের উৎস কী। তােমরা জানাে কী বন্ধুরা যে আমাদের বাসাবাড়িতে যে বিদ্যুত ব্যবহার করা হয়, সেটা সেকেণ্ডে ৫০ বার দিক পরিবর্তন করে! কী? সত্যিই আশ্চর্যের,তাই না ? তাে চলাে প্রথমে এই এসি বা পরিবর্তী প্রবাহের সাের্স সম্বন্ধে জানা যাক •••

ধরা যাক, N এবং S একটি চুম্বকের দুটি মেরু যা H প্রাবল্যের একটি সুষম চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। মনে করি AB একটি বদ্ধ কুণ্ডলী। এটি চৌম্বক ক্ষেত্র এর অভিলম্ব তলে অবস্থিত। কুণ্ডলিটি তার নিজস্ব আনুভূমিক অক্ষে ) কৌণিক বেগে ঘুরছে। মনে করি, কুণ্ডলীতে পাকসংখ্যা n এবং তার ক্ষেত্রফল A। অতএব, কুণ্ডলীর তল চৌম্বক ক্ষেত্ররেখার অভিলম্ব হলে তার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত চৌম্বক ফ্লাক্স…

Φ=nμAH

এখন ধরি কুণ্ডলীটি t সময়ে θ কোণে ঘুরে A1 B1 অবস্থানে গিয়েছে। এমতাবস্থায় চৌম্বক ক্ষেত্রের অভিলম্ব উপাংশ = Hcosθ

ফ্লাক্স বা ক্ষেত্ররেখার সংখ্যা •••

Φ=nμAH Cosθ
=nμAH Cos ωt

যেহেতু কুণ্ডলীটি ঘূর্ণনের জন্য অতিক্রান্ত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটবে, সেহেতু ফ্যারাডের তড়িত চৌম্বকীয় আবেশের ফলে কুণ্ডলীতে তড়িচ্চালক শক্তি আবিষ্ট হবে এবং আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির মান

𝑬=−𝒅𝚽𝐧/𝒅𝒕
=−𝒅/𝒅𝒕(𝐧𝛍𝐀𝐇 𝐂𝐨𝐬 𝛚𝐭)
=−(𝐧𝛍𝐀𝐇𝛚 𝐒𝐢𝐧 𝛚𝐭)
𝑬=𝑬𝟎𝑺𝒊𝒏 𝛚𝐭 …………(i)

এখানে,𝑬𝟎= 𝐧𝛍𝐀𝐇𝛚= সর্বোচ্চ তড়িচ্চালক শক্তি।

বন্ধুরা, তােমরা দেখতেই পাচ্ছ যে এই তড়িতচৌম্বক আবেশ হতে কীভাবে ফ্যারাডের সূত্রানুসারে আমরা একটি দিক পরিবর্তী বা এসি ভােল্টেজ পেয়ে গেলাম! সমীকরণের প্রথমের দিকে একটি নেগেটিভ মার্ক এটাই বােঝায় যে প্রবাহের দিক এর উতপন্ন হবার কারণের দিকের বিপরীত! যা লেঞ্জের সূত্রকেই পরিপূর্ণ করে। (i) নং সমীকরণ থেকে আমরা এটাও বুঝতে পারলাম যে এই প্রবাহ এক পর্যাবৃত্ত প্রবাহ! কেননা (i) নং সমীকরণ আর তরঙ্গের সমীকরণের কোনই পার্থক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি নাহ! কাজেই এই এসি বা পরিবর্তী প্রবাহে ঐ সকল টার্মই থাকবে যেগুলাে আমরা তরঙ্গে পেয়ে থাকি! কাজেই এসি কে আমরা সহজেই তরঙ্গ রূপে ভাবতে পারি! ঠিক নিচের ছবির মতাে!

আমরা যেভাবে এসিতে তড়িচ্চালক শক্তি বা ভােল্টেজের সমীকরণ লিখলাম,ঠিক একই উপায়ে আমরা কারেন্টের সমীকরণ লিখতে পারি,কাজেই কারেন্টের সমীকরণ•••

𝑰=𝑰০𝑺𝒊𝒏 𝛚𝐭

সুতরাং বন্ধুরা, এই হলাে এসির যতাে ব্যাপারসেপার! আশাকরি তােমরা বুঝতে পেরেছাে টার্মগুলি৷ ফ্যারাডে এবং লেঞ্জের সূত্রগুলির ডিটেইল ব্যাখ্যা তােমরা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম কন্টেন্টে পাবে! তাে,ভালাে থেকো বন্ধুরা! হ্যাপি লার্নিং…

Series Navigation<< তড়িত তাণ্ডব(পর্ব ৩)
Share This