This entry is part 3 of 4 in the series তড়িত তাণ্ডব

হ্যালাে বন্ধুরা, আশাকরি ভালাে আছাে সবাই! তড়িত তাণ্ডবের আরাে একটি পর্বে তােমাদের জানাই স্বাগতম । তড়িত এর পৃথিবী অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত এতে সন্দেহ নাই। আমরা এর সবটাই জানার চেষ্টা করবাে,তবে ধীরে ধীরে। গতপর্বে তােমরা রােধ,বিভব আর প্রবাহ তথা রেজিস্ট্যান্স,ভােল্টেজ এবং কারেন্ট নিয়ে মােটামুটি ধারণা পেয়েছাে ! আজ তােমাদের বিদ্যুতের দুই ধরণ নিয়ে কথা বলব।

ততা গতপর্বে তােমরা দেখেছাে যে ভােল্টেজ এবং কারেন্ট কী। এখন বন্ধুরা তড়িতের দুইয়ার সবকিছুই এই ভােল্টেজ আর কারেন্টময়। এরাই তড়িতের কী প্লেয়ার ! কারণ এরাই বহন করে পাওয়ার বা শক্তি। তাে চলাে চট করে দেখে নিই প্রবাহ বা ভােল্টেজ কত প্রকারের
(1) পরিবর্তী প্রবাহ
(২) অপরিবর্তী প্রবাহ

তােমরা অনেকেই হয়ত ভাবছাে,এ দুই ই তাে প্রবাহের প্রকারভেদ হইলাে ! ভােল্টেজ টা কোথায়। আসলে বন্ধুরা ভােল্টেজ আর কারেন্ট এ দুই ই আসলে পরিবর্তী আর অপরিবর্তী এ দুই ক্যাটাগরীর ! কিন্তু কোনাে এক অজানা কারণে কেন জানি একে ইংরেজীতে AC আর DC নাম দেওয়া হয়েছে ! আর AC মানে যেহেতু Alternating Current আর DC মানে Direct Current তাই বাংলাতেও এ দুই এর নাম হয়ে গেছে পরিবর্তী আর অপরিবর্তী প্রবাহ! এখন এজন্য যদি বিভব বা ভােল্টেজ হরতাল শুরু করে দেয় যে আমার নাম কেনাে দেওয়া হলাে না ! তােখন কিন্তু আমায় দায়ী করতে পারবে না!

তাে চলাে এবার আসল বিষয়ে প্রবেশ করি। অর্থাৎ পরিবর্তী আর অপরিবর্তী প্রবাহ।
প্রথমেই আসি অপরিবর্তী প্রবাহ বা ডিসি তে। সােজা সাপ্টা সংগা হলাে এই যে, যে প্রবাহ বা ভােল্টেজ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তীত হয় না বা অপরিবর্তীত থাকে, তাকেই বলে ডিসি বা অপরিবর্তী প্রবাহ। এখন মনে প্রশ্ন আসবে একটু সময় পর পর আবার প্রবাহ চেঞ্জ হয় কীভাবে! হয় বন্ধুরা, অবশ্যই হয়। তুমি জানাে, আমরা বাসাবাড়িতে যে বিদ্যত ব্যবহার করি তা সেকেণ্ডে ৫০ বার দিক পরিবর্তন করে! কী অনেক অবাক হলে ? অবাক হবার মতােনই আসলে ব্যাপারটা! তবে সে ব্যাপারে আমরা এসি বা পরিবর্তী প্রবাহে জানব। আপাততাে চলাে আগে অপরিবর্তী প্রবাহ বা ডিসির ব্যাপারটা শেষ করে ফেলি। তাে ডিসি কে আমরা বলছি অপরিবর্তী প্রবাহ। নামের মাঝেই রয়েছে পরিচয় এবং আমরা সংগাতেও সেটাই দেখলাম। তাে সময়েরব সাথে দিক পরিবর্তন করে না কথাটার অর্থ কী। তার আগে চলাে একটা ছবি দেখে আসি…

তাে দেখতেই পাচ্ছ বন্ধুরা যে এখানে একটি লাইট এবং ব্যাটারীর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা দেখানাে হয়েছে। তােমরা দেখতে পাচ্ছ যে এখানে ইলেক্ট্রন ব্যাটারীর নেগেটিভ প্রান্ত হতে লাইটের মধ্য দিয়ে পজিটিভ প্রান্তে যাচ্ছে ! যদিও ইলেকট্রনের প্রবাহই বিদ্যুত প্রবাহ! কিন্তু জানাে তাে মানুষ ইলেকট্রন আবিষ্কারের অনেক অনেক দিন আগে বিদ্যুত আবিষ্কার করে ! তাে তখন তারা মনে করত যে চার্জ পজেটিভ থেকে নেগেটিভে ফ্লো হয়! যদিও পরে দেখা গেলাে ঘটনাটা হয় উলটো, তবুও ঐতিহ্যগত কারণে বিদ্যুত । প্রবাহের দিক ধরা হলাে পজেটিভ টু নেগেটিভের দিকে! অর্থাৎ ইলেকট্রন প্রবাহের দিকের বিপরীত। এখন লক্ষ্য করাে যে ছবিটায় যে দিক দেখানাে হয়েছে তা ইলেকট্রন প্রবাহের দিক, আসলে সকল সার্কিটে বিদ্যুত প্রবাহের দিক হিসেবে ঐতিহ্যগত দিক টাই ধরা হয় অর্থাৎ পজেটিভ টু নেগেটিভ। 

তাে দেখাে ব্যাটারীর এই যে একপাশ হতে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়ে অন্যদিকে যাচ্ছে, এটি কিন্তু এক অবরাম ঘটনা। যতক্ষন অবদি ব্যাটারীর চার্জ শেষ না হবে অথবা ব্যাটারীর দুই প্রান্তের বিভব সমান না হবে ততক্ষন অবদি এ প্রবাহ চলবে! এতে প্রবাহের দিকের কোন পরিবর্তন নেই! একটা গ্রাফ পেপার নিয়ে তাতে X অক্ষে সময় আর Y অক্ষে প্রবাহ নিয়ে যদি আমরা গ্রাফ আকি তবে ডিসির জন্য তা দেখা যাবে নিচের ছবির মতাে •••

দেখতেই পাচ্ছ যে এখানে প্রবাহ সময়ের ওপর নির্ভরশীল নয়! সময় গেলেও প্রবাহ ঠিকই আছে এবং কোনরূপ পরিবর্তন এক্ষেত্রে ঘটে নি ! আর এজন্যই একে বলা হচ্ছে অপরিবর্তী প্রবাহ!

আশাকরি সবাই বুঝেছ বিষয়টা ! তাে বন্ধুরা আজ এটুকুই। আগামী পর্বে আমরা আলােচনা করব পরিবর্তী প্রবাহ বা AC নিয়ে। ততদিন অবদি, “হ্যাপি লার্নিং”…

Series Navigation<< তড়িত তান্ডব (পর্ব 2)তড়িত তাণ্ডব(পর্ব ৪) >>
Share This