কিভাবে ইন্টারভিউ তে ফাটিয়ে দিতে হয়, একটা ভালো প্রভাব ফেলতে হয়, কি পরা উচিত, কিভাবে সংলগ্ন থাকতে হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় এবং এমন আরও অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই আমি।

আমার আগের পোস্টে ইন্টারভিউ এর ভয় কাটাতে আমি উল্লেখ করেছিলাম আমি ইন্টারভিউ কতটা ভালোবাসি এবং কিভাবে একটা ভালো চাকুরী পেয়েছি যেখানে অতীতে আমি চাকুরীর সুযোগের চেয়ে অনেক বেশি ইন্টারভিউ এ উপস্থিত হয়েছি।

কিন্তু এইবার আমি আপনাদেরকে ৭টি পরামর্শ জানাবো যাতে করে আপনি যে আসনের জন্য আবেদন করেছেন সেক্ষেত্রে আপনিই অন্যতম যগয় ব্যক্তি বলে বিবেচিত হন আপনার নিয়োগকর্তাদেস কাছে।

১। দক্ষতার সাথে চমৎকার একটি আত্ম বিবৃতি

জানাশোনা সকলক্ষেত্র এবং দীর্ঘ সূত্রের যে সব পরিচয় পর্যালোচনা করে আমি এটা বিশ্বাস করি যে সব সম্পর্কের অবস্থাটা প্রথম পরিচয় অর্থাৎ প্রথম দেখায় যে দু’এক মিনিটের কথোপকথন চলে তার উপরই ভিত্তি করে।

আপনার নিয়োগকর্তা কে অভিভূত করার সর্বোত্তম উপায় হল একটি মারাত্মক পরিচয় পর্ব।

এর জন্য আমার পরামর্শ হল, এমন কিছুকে হাতিয়ার বানান যেটা আপনি এযাবতকাল যা করেছেন (স্কুল+দক্ষতা), যে ফলাফল পেয়েছেন এবং আপনি কিভাবে নতুন সংগঠনে ওগুলাও কিভাবে পুনরাবৃত্তি করবেন তার একটা সারমর্ম। এগুলোর সমন্বয়ে আমি মনে করি এই বাক্যটিই যথোপযুক্তঃ “ …এই মুহূর্তে, আমি আশা করতেছি…”

২। আপনার কথোপকথনের ক্ষেত্রে কৌশলগত বিরিতি নিন

ইন্টারভিউতে আপনার জন্য সাধারণত এক বোতল পানি থাকবে। যদি না থাকে? সেইজন্য আপনার সাথে এক বোতল নিয়ে যান। আপনার যে পিপাসা লাগবেই সেজন্য এটা না, বরং মাঝে মাঝে একটু চুমুক দিয়ে আপনি মনোসংযোগ একত্রীভূত করার সময় পেতে পারেন (আমার সাংবাদিকতা/গণ যোগাযোগ ক্লাসের অভিজ্ঞতা)।

পারস্পরিক যোগাযোগ তখনই সুন্দর যখন আপনি কৌশলগত সময়ক্ষেপনের মাধ্যমে নিজেকে এবং নিয়োগকর্তা উভয়কেই প্রশ্নোত্তরের মাঝে চিন্তা ভাবনা করার সু্যগ দিবেন। এবং আপনি জানেন কি? এটা আপনাকে এমন ভাবে উপস্থাপন করবে যে আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

আপনি যখন তাড়াহুড়ো করে পরশ্নের উত্তর দিবেন, আপনি সঠিক ভাবে চিন্তা করতে সক্ষম নাও হতে পারেন, এবং এমনও হতে পারে যে আপনি প্রধান বা বিরচিত প্রশ্ন সনাক্ত করতে সক্ষম নাও হতে পারেন।

৩। কখনোই এটাকে খুব মারাত্মক ভাবে ভাববেন না

এটা না বললেও চলে যে, আপনি অবশ্যই ইন্টারভিউকে একটা দ্বিমুখী কথপোকথন হিসেবে ভাববেন। এটা একটা চমৎকার উপায় আপনার নিজের ভাবনা প্রকাশের, বুঝতে, বোঝাতে এবং অন্যদের সাথে সংযুক্ত হতে।

মতপ্রকাশঃ প্রত্যেকটি কথপোকথন একটি সাধারণ ভাষায় পরিচালিত হয়। কোন অর্থহীন ভাষা অনুমোদিত নয় যদি না সেটি সাধারণ ভাবেই ওই সংগঠনে ব্যবহৃত হয়, এবং এটা আপনার চাকুরীর জন্য প্রয়োজনীয় হয়।

বুঝুন এবং বোঝানঃ এটাও মতপ্রকাশের মত কিন্তু এখানে আপনি যা বোঝাতে চাচ্ছেন সেটিই আপনার সঙ্গী বুঝছে সেটি নিশ্চিত অরতে চাইবেন। আপনি এটাও নিশ্চিত করতে চাইবেন যে অন্যরাও আপনাকে সেভাবে দেখুক যেভাবে আপনি নিজেকে দেখেন।

অন্যদের সাথে সংযুক্ত হোনঃ অন্যদের সম্পর্কে ভাবুন। তাদের কষ্ট। তাদের কঠোর পরিশ্রম। তাদের দুর্বলতা। আপনি যে কথপোকথন ই করেন না কেন আপনার নিয়োগকর্তার সাথে আপনাকে নিয়োগ দিতে তাদেরকে আগ্রহী করুন। আপনি তাদের সাথে আবেগ দিয়ে সংযুক্ত হোন, শুধুমাত্র যুক্তির মাধ্যমে আপনাকে এখনই নিয়োগ দিতে তাদের কে ইচ্ছুক করলেই হবে না।

আপনার শক্তি এবং তারা যে পদে নিয়োগ দিচ্ছেন  সেই পদ বেশি দিন ধরে খালি রাখলে তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন সেটার সমন্বয় করুন। আমরা এখানে প্রবঞ্চনা করতেছি, আমি জানি!

উদাহরণ স্বরূপ, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন স্নাতক ছাত্রের মধ্যের কথপোকথনে, যদি একজন সংগঠন ও আত্মযত্ন নিয়ে কথা বকাশুরু করেন, এবং কোন স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেশ আমি এখন এড়িয়ে যাচ্ছি……এমনকি কোন মাত্রা নিরধারণ না করেই, আমি তাদের কথাতশুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনব কারণ তারা আমার সাথে কথা বলছে। তাইলে বিষয়টা আসলে কি? এটা পুরোপুরি তাদের নিয়ে ( নিয়োগকর্তা, সংগঠন, কোম্পানি ইথ্যাদি)!

ভাবুন আপনি কিভাবে এই সংযোগ করবেন। কোম্পানি কি নিয়ে সতর্ক?

এলোপাতাড়িঃ একজন কোম্পানির প্রেসিডেন্ট এর সাথে ইন্টারভিউ চলাকালে, জনাব প্রধান নির্বাহী অফিসার আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে যদি আমার অতিক্ষমতা থাকত তাইলে আমি কোন ধরনের গাছ হইতে চাইতাম। মানে সত্যি? আমি অনেক ভাবলাম এবং বললাম, “একটি iroko গাছ। ” লম্বা এবং দুঃখ জনক গল্প। জিজ্ঞেস করবেন না!

৪। আপনার নিজের মূল মূল্যায়ন সম্পর্কে গভীর ভাবে ভাবুন

তারা জানতে চায় যে আপনার নেতৃত্ব/যোগাযোগের দক্ষতা আছে এবং আপনি কি কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম যখন প্রয়োজন দেখা দিবে। আমার ক্ষেত্রে জনাব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চেয়েছিলেন স্থিতি বলতে আমি কি বুঝি। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার জন্য স্বাচ্ছ্যন্দ কোথায়?”

আপনাকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হতে পারে যা তুচ্ছ বা অর্থহীন মনে হতে পারে। যাই হোক না কেন, ভেবে চিনতে ওই প্রশ্নের উত্তর দিন। এগুলো সাধারণত কৌশলী প্রশ্ন নয় কিন্তু এগুলো আপনাকে যাচাই করবার জন্য করা হয় যে আপনি জটিল চিন্তা করতে পারেন কি না। এখন আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না না যে এটা ঠিক কি না, এমন প্রশ্ন ইন্টারভিউ তে জিজ্ঞেস করা। আমার কাছে এর কোন উত্তর নেই। তবে আমি সেগুলো উতরে যেতে পারি।

৫। আপনার জীবনবৃত্তান্ত পড়ে শোনাবেন না। তারা সেটি ইতোমধ্যেই পড়ে ফেলেছেন।

আপনি আপনার অতীত জীবনে যেখানে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েও অনেক ভাল কর্ম দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন সেগুলো খোজ করুন। কি ধরনের সমস্যা সমাধান করেছিলেন? কিভাবে করেছিলেন? এটা কি সমাধান যোগ্য ছিল? যদি সমাধানযোগ্য না ছিল তাহলে আপনি কি শিখেছিলেন?

৬। দুর্বলতার প্রশ্ন

৫ নং টি মেনে চলুন। কিন্তু এখানে আপনার নিজস্ব একটি দুর্বলতা খুজে নিন যেটার উপর আপনি এখন কাজ করতেছেন।

৭। কোম্পানী কিসে গুরুত্ব দেয় তা জেনে রাখুন (অতীব গুরুত্বপূর্ণ)

জনাব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার অধীনস্তদের মধ্যে কোন বিষয় টাকে মূল্যায়ন করেন? খুজে বের করুন! যদি তিনি মানবীয় সম্পর্ক কে বিশ্লেষণাত্মক এর চেয়ে বেশী প্রাধান্য দেন তাইকে এটা নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার ইন্টারভিউ-এ সেটির যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছেন।

এগুলো হচ্ছে ইন্টারভিউ-এ ভালো একটা প্রভাব ফেলার জন্য আমার সেরা কিছু নির্দেশনা। আপনি চাকুরী আবেদনের কোন ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন?

সূত্রঃ https://www.huffingtonpost.com/margaret-olatunbosun/7-tips-good-impression-interview_b_8108070.html

Share This