প্রথম চাকুরী সফলতা, ব্যর্থতা এবং এর মাঝামাঝি সবকিছুর মধ্যে যেকোন একটি অভিজ্ঞতার এক অদম্য ঘূর্ণিবায়ু নিয়ে আসে। নিত্য কঠোর পরিশ্রম, আপনার কাজের মধ্য দিয়ে আপনার পেশাদারিত্বের উন্নতির মাত্রা ঠিক কতটুকু তা বোঝা আপনার জন্য কঠিন করে তুলতে পারে। যাইহোক, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে এই অভিজ্ঞতা গুলো শুধু মাত্র জীবন যাপনের মাধ্যমের চেয়ে বেশী কিছু; এগুলো বিশাল সুযোগ এমন একটা হাতিয়ার তৈরি করতে, যেটা আপনার পুরো পেশাদার জীবনে কাজে লাগবে। এই ধারণা মাঠায় রাখলে আপোণাড় ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টার প্ররোচক হিসেবে কাজ করবে। নিচে কিছু দক্ষতার কথা বলা হয়েছে যেগুলো একজন নব্য চাকুরীজীবির উচিত আয়ত্ত করা এবং প্রথম চাকুরীতেই অনুশীলন করা যাতে করে তারা একটা সাফল্যমণ্ডিত কর্মজীবন পায়।

১। আপনার মতামত সুনির্দিষ্ট করে ব্যক্ত করুন। নিজেকে অন্যের কাছে সহজে বোধগম্য করার ক্ষমতা চাকুরীর ক্ষেত্রে সফলতার মূলমন্ত্র এবং এটার চর্চা আপনার পেশাদারীত্ব্ব কে ত্বরান্বিত করবে। যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর অন্যতম একটি মূল উপায় হল নিয়মিত আপনার সহকর্মী এবং মক্কেল উভয়ের সাথেই মৌখিক আলাপ চালানো। সবচেয়ে নির্দিষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত ভাবে কোন কিছু বলা, এটি মাথায় রাখতে হবে স্পষ্টবাদী হবার জন্য। আপনার নিজের বক্ত্যবের মধ্যেই ভাবতে হবে এবং শ্রোতাদের সাথে সমন্বয় করতে হবে; শ্রোতাদের কে কোন কিছু সুস্পষ্ট করে বোঝানোই হবে আপনার লক্ষ্য। যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষতা আপনাকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করতে পারে, রুটিন ফোনকল থেকে শুরু করে অপরিচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে কথোপকথন পর্যন্ত।

২। একজন দলীয় সদস্য হোন। কর্পোরেট জীবনে একাকী সফলতা খুব সামান্যই ধরা দেয়। বরং যারা সফল হন তারা একে অন্যের সাথে সংযুক্ত থেকেই কাজ করেন। একটা ব্যবসা হল এমন কিছু অংশ নিয়ে গঠিত যেগুলো একইসাথে কাজ করে একটা সাধারণ লক্ষ্যে পৌছানোর চেষ্টা করে এবং এখন আপনি এর একটা অংশ। কিভাবে দলগত ভাবে কাজ করতে হয় তা শুধু নিজের উন্নতি নয় বরং দলের উন্নতি কিভাবে করা সম্ভব তা বোঝার মধ্য দিয়ে শিখুন। প্রথম দিন থেকেই আপনার দলকে সামগ্রিক ভাবে সহায়তা করুন সংগঠনের উন্নতির স্বার্থে এবং এতে আপনার মূল্যায়ন দৃশ্যমান হবে ও আপনি মূল্যায়িত হবেন। এছাড়া দলগত কাজ হল একটি পারস্পরিক দক্ষতার এবং আপনি যখন আপনার দলকে অগ্রাধিকার দিবেন আপনিও অনুরূপ মূল্যায়িত হবেন। কার্যকরভাবে একটি দলে দেওয়া এবং নেওয়া শেখার মধ্যদিয়ে আপনি নিজেকে সফলতার পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন আপনার বর্তমান চাকুরী এবং যেকোন ক্ষেত্রে।

৩। অধ্যবসায়ী হোন। সামনে এগিয়ে যাবার ক্ষমতা যখন সামনে আগানো কষ্টকর, হল এমন একটা দক্ষতা যেটা অমূল্য এবং আয়ত্ত করা কষ্টসাধ্য। এটা শুধু মাত্র আপনার পুরষ্কারের দিকে মওযোগ দেবার চেয়ে বেশী কিচু; এটা হল কখনও হাল না ছাড়া, এমনকি যখন ব্যর্থতা অবশ্যম্ভবী। সঙ্কল্পের সাথে দৃঢ় চিত্তে সব ধরনের মুশকিল এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যান এবং কালক্রমে এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। এবং যখন অধ্যবসায় আপনার পেশাগত ডিএনএ-র একটা অংশ হয়ে যাবে তখন আপনি কর্পোরেট জীবনের ক্ষেত্রে একেবারে সিঁড়ির দু’টি করে ধাপ অতিক্রম করতে পারবেন।

৪। উচ্চাকাঙ্খা প্রদর্শন করুন। কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দ হওয়া সহজ। আপনি ন্যূনতম কাজ করেও আপনার আপিসের প্রয়োজন মেটাতে পারেন, কিন্তু আপনি আপনার অবস্থানে আটকে যেতে পারেন, যেটা হবে বিরক্তকর, আর্থিক দিক দিয়ে অসন্তোষজনক। আপনি যদি কাজে আগ্রহী হন, বেশি সময় ধরে বেশী কাজ করে অতিরিক্ত উপার্জনে আগ্রহী হন, তাইলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ক্যারিয়ার এর প্রথম থেকেই এগুলো চর্চা করতে হবে। এছাড়া আপনি যখন কোন কোন কাজ পাবেন, রুটিন অনুযায়ী তা না করে বরং আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী করুন যাতে ফলাফল আরও ভালো হয়। আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য সুব ধরনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। এবং আপনার উচ্চপদস্থদের জানতে দিন যে আপনি কাজ করতে আগ্রহী। আপনি যদি এটা করেন, আপনার এই উচ্চাকাঙ্খা অবশ্যই আপনাকে কর্মক্ষেত্রে অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে এবং আপনার ক্যারিয়ার কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

 

এই দক্ষতাগুলোর চর্চা সহজ নাও হতে পারে এবং ফলাফল অবশ্যই রাতারাতি পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকটির জন্যই প্রয়োজন একনিষ্ঠতা এবং গভীওর মনোসংযোগ। কিন্তু আপনি যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর করেন, আপনি বিশেষ ভাবে আপনার কার্যক্ষেত্রের সন্তুষ্টির ঘাটতি গুলো পুরণ করতে পারবেন সহজে এবং শেষ অবধি একটি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার পাবেন।

সূত্রঃ https://www.huffingtonpost.com/erika-mark/four-essential-skills-to-_b_5574959.html

Share This