This entry is part 1 of 4 in the series তড়িত তাণ্ডব

তড়িত তান্ডব (পর্ব ১)

ঈশ! আজ কী অস্বাভাবিক গরম! ফ্যানটা চালিয়ে দাো তো… অথবা টিভিতে টান টান উত্তেজনাকর একিট ক্রিকেট ম্যাচ! তখন হুট করে চলে গেলো বিদ্যুৎ! মেজাজ তো খারাপ হবারই কথা তাই না! যাকে ছাড়া একটা ঘন্টাও চলেনা আজ তার কথা বরতে এসেছি। কী নেই ছোট্ট তিন অক্ষরের শব্দে। আছে গোটা পৃথিবীর বদলে যাওয়ার গল্প! শক্তির যে রুপ আমাদের এইরুপ ক্ষমতা দিলো! তার ব্যাপারে আমাদের জানতে হবে না? অবশ্যই হবে! আর এজন্যই আজ থেকে শুরু তোমাদের তড়িত বা বিদ্যুতের সাথে পথচলা। দেখা যাক এই তড়িত দিয়ে আমরা তান্ডব করতে পারি কী না!

তো বিদ্যুত বা তড়িতের কথা শুনলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে রঙবেরঙের তার, ব্যাটারী অথবা রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বিদ্যুত পলগুলি। তো এই যে বিদ্যুত পোলের তারের ভেতর দিয়ে যে বিদ্যুত যায় আর ব্যাটারীর বিদ্যুত, এই দুই কী এক? নিশ্চয় না! একটা পার্থক্য মনে হয় আমরা সবাই দেখেছি! বাসাবাড়ির বিদ্যুতে হাত দিলো খরব হয়ে যায়! কিন্তু ব্যাটারীতে হা দিলে তো কিছুই হয়না! এর পেছনেই বা কী কারণ! সব আসবে আস্তে আস্তে… আমরা তড়িত দুনিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছি তিনটি শব্দের সাথে পরিচিত হয়ে,

() তড়িত পরিবাহী

() তড়িত অপরিবাহী *

() তড়িত অর্ধপরিবাহী

তো আমরা প্রথমে বিষয়গুলির সাথে পরিচিত হয়ে নিই। পরিবাহী হলো এমন জিনিস যার ভেতর দিয়ে বিদ্যুত খুব সহজেই পরিবাহিত হতে পারে। যেমন: তামা। আমরা কিন্তু প্রায় সবাই দেখেছি বিদ্যুতের তারগুলি অধিকাংশ তামার তৈরি হয়।

এবার আসি অপরিবাহীতে, অপরিবাহী শব্দটা থেকেই তোমরা হয়তো বুঝতে পারেছ যে এ ধর্মটা পরিবহী বিপরীত। অর্থাৎ এগুলো হলো এমন পদার্থ যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুত যেতে পারে না! তবে কখোনো কখোনো কোন পরিস্থিততে বিদ্যুত যেতে পারে, তবে আমরা এখন সাধারণ অবস্থার বিচারে কথা বলছি।

তো পরিবাহী গেলো, অপরিবাহী ও গেলো। পড়ে রইল কে? অর্ধপরিবাহী। তো এই অর্ধপরিবাহী কেমন জিনিস? এটা হলো পরিবাহীর মতো আচরণ করে, আবার কখনো কখনো অপিরবাহীর মত! তো এই তিন ধরণের বস্তুর মধ্যেই আমাদের তড়িতের যতো কার্যকলাপ সেগুলি আমরা দেখব!

তো বস্তুর কথা গেল এবার আসি আসল ব্যাপারে। এই যে ব্যাপরটা, বিদ্যুত যাচ্ছে, বিদ্যুত যাচ্ছে না, তো এই বিদ্যুতটা আসলে কী? এককথাতেই উত্তর শেষ!

ইলেক্ট্রনের প্রবাহকেই বিদ্যুত বলে! অর্থাৎ কোন বস্তুতে যদি ইলেক্ট্রন প্রবািত হয় তবেই আমরা বলতে পারি সেটি বিদ্যুতায়িত হয়েছে। এখন কতা হলো কেন বস্তুই কিন্তু নিজের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনেকে প্রবাহিত হতে দিতে চায় নি! তাকে বাধা দেবার চেষ্টা করে! এটা কিন্তু পৃথিবীর সব বস্তুর জন্য একই! সবাই তার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রনের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। বস্তুর এই যে ইলেক্ট্রনের গতিপথে বাধাদানকারী প্রবণতা একেই বলে রোধ। এই রোধ জিনিসটা কিন্তু তড়িত বিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও যে বিষয়গুলি না জানলেই নয় সোগুলি হলো,

তড়িত বিভব বা ভোল্টেজ

তড়িত প্রবাহ বা কারেন্ট

তো আমরা একে একে এই সকল বিষয়গুলি সম্পর্কে জানতে পারব। আজ তড়িতের দুনিয়ায় তোমাদের প্রথম পদক্ষেপ রাখা হলো। আশা করি ভবিষ্যতে তড়িতের সব মজার বিষয়গুলি নিয়ে তোমাদের সামনে আবার উপস্থিত হবো! ততোদিন পর্যন্ত হ্যাপি লার্নিং..

Series Navigationতড়িত তান্ডব (পর্ব 2) >>
Share This